Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের পাইকারি মূল্যস্ফীতি বা WPI (Wholesale Price Index) মে, ২০২৬-এ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৬৮%-এ, যা এপ্রিলে ৮.২৬-এর তুলনায় অনেক বেশি। এটি নতুন সংশোধনের সিরিজ যা বেস ইয়ার ২০২২-২৩-এর অধীনে প্রকাশিত প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলির মধ্যে একটি। এছাড়া মে মাসের WPI অর্থনীতিবিদদের অনুমানের চেয়েও অনেকটা বেশি হয়েছে। আর এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং ইরানকে ঘিরে তেলের বাজারে অস্থিরতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ভারত যেহেতু তার অধিকাংশ তেল আমদানি করে। তাই এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের উৎপাদন, পরিবহন এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল খরচের ওপর। ফলে পাইকারি স্তরে পণ্যের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া জ্বালানি খরচ বাড়ার পাশাপাশি রাসায়নিক, সার, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাঁচামালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়ীরা সতর্ক করার সাথে বলেছেন, যদি আন্তর্জাতিক স্তরে তেলের দাম দীর্ঘসময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে; তাহলে আগামী মাসগুলিতে আরও অনেক পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে। আর এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে পারে। পাইকারি স্তরে দাম বাড়লে কিছু সময় পরে খুচরো বাজারেও তার প্রভাব দেখা যায়। অর্থাৎ খাদ্যপণ্য, দৈনন্দিন ব্যবহার যোগ্য সামগ্রী এবং পরিবহন ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যদিও খুচরো মূল্যস্ফীতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তবুও অর্থনীতিবিদরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। এদিকে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে; একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিও বজায় রাখতে হবে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। যা ভারতের অর্থনীতির জন্য অতিরক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ এক মাসের ১%-এর বেশি পাইকারি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির বার্তা বেশ স্পষ্ট।




