Article By – সুনন্দা সেন

রাশিয়া থেকে ভারতে তেল আমদানি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের Ministry of External Affairs বা বিদেশ মন্ত্রক সরাসরি মার্কিন দাবিকে খণ্ডন করেনি। ফলে এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়ার উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করলেও, ভারত এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানি তুলনামূলকভাবে কম ছিল, কিন্তু যুদ্ধের পর ছাড়মূল্যে তেল পাওয়ার সুযোগে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, ভারতের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ এবং শক্তি নিরাপত্তার উপর নির্ভরশীল। দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকার বৈশ্বিক বাজারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য উৎস বেছে নেয়। তিনি বলেন, “ভারত তার জনগণের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেয়।” তবে মার্কিন দাবিকে সরাসরি অস্বীকার বা সমর্থন—কোনোটাই স্পষ্টভাবে করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের দীর্ঘদিনের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতিরই প্রতিফলন। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক; অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও জ্বালানি সহযোগিতা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখলে, ছাড়মূল্যে রাশিয়ান তেল আমদানি ভারতের আমদানি বিল কমাতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ভবিষ্যতে এই সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে।




