Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের কেন্দ্র সরকার জ্বালানি (Fuel) রপ্তানি নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলো। অর্থমন্ত্রক পেট্রোলের ওপর রপ্তানি শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ডিজেল এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা ATF-এর ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হবে। এর ফলে বিদেশে পেট্রোল বিক্রি করে লাভের পরিমাণ কমবে। অবশ্য ডিজেল ও ATF-এর কারণে কিছুটা স্বস্তি।
ATF-এর ওপর শুল্ক কমানোকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বিমান সংস্তাগুলির মোট খরচের বড় অংশই জ্বালানি ব্যয়। শুল্ক কমলে এয়ারলাইন্সগুলির অপারেটিং খরচ কমতে পারে। যার প্রভাব ভবিষ্যতে বিমান ভাড়াতেও পড়তে পারে। ডিজেলের ওপর শুল্ক কমানোর ট্রাক পরিবহণ, কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে পণ্য পরিবহণ খরচ (Freight Costs) নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার একদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে চাইছে, অন্যদিক আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানির ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক তেলের দাম আরও বাড়লে সরকার আবারও শুল্ক কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে। তাই জ্বালানি বা ফুয়েল মার্কেটে আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
পেট্রোল শুল্কের বৃদ্ধি ও ডিজেল এবং FTA-এর শুল্ক কমানোর ঘটনা কেবল জ্বালানি বাজারে নয়, দেশের শেয়ার বাজারেও প্রভাব ফেলছে। এই ঘোষণার পরে তেল ও গ্যাস সেক্টরের শেয়ারগুলির দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির লাভের ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে।




