Article By – সুনন্দা সেন

ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রে ৮,৬০৬ টন কাঁচা আখের চিনি বা র’ সুগার রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত এল, যখন দেশে সাধারণ চিনি রপ্তানির উপর এখনও নিয়ন্ত্রণ চলছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন আমেরিকায় চিনি পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হল এবং এর প্রভাবই বা কী হতে পারে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড বা DGFT জানিয়েছে, এই রপ্তানি হবে বিশেষ TRQ বা ট্যারিফ রেট কোটা ব্যবস্থার আওতায়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি এমন একটি বাণিজ্যিক ব্যবস্থা যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কম শুল্কে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ থাকে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আগে থেকেই এমন একটি বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে এবং সেই চুক্তির অধীনেই এই বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমানে ভারত সরকার সাধারণভাবে চিনি রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এর প্রধান কারণ দেশের বাজারে চিনির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিশেষ করে উৎসবের মরসুম সামনে থাকায় সরকার চাইছে না যে অতিরিক্ত রপ্তানির কারণে দেশের বাজারে চিনির দাম বেড়ে যাক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার কারণেই সীমিত পরিমাণে এই রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই অনুমোদন কার্যকর থাকবে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। তাই অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চিনির উপস্থিতিও বজায় থাকবে।
যদিও রপ্তানির পরিমাণ খুব বেশি নয়, তবুও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুগার ইন্ডাস্ট্রির একাংশ এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, আমেরিকার মতো বড় বাজারে সীমিত হলেও রপ্তানির সুযোগ পাওয়া ভারতীয় চিনি শিল্পের জন্য ভালো বার্তা। তবে অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি রক্ষা করার জন্যই নেওয়া হয়েছে।




