Article By – সুনন্দা সেন

দেশের সাধারণ মানুষের ওপর ফের চাপ বাড়াল জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। আজ (২৫মে, ২০২৬) আবারও বাড়ানো হল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি চতুর্থ দফার মূল্যবৃদ্ধি। আর এই সময়ের মধ্যে পেট্রোল-ডিজেলের দাম ৭.৫০ টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের এই লাগাতার মূল্য বৃদ্ধি পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে এই নতুন করে চাপ তৈরি করার আশঙ্কা রয়েছে। যে কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং ট্রান্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রি, সকলেই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
রাজধানী নিউ দিল্লীতে পেট্রোলের দাম পৌঁছেছে ১০২.১২ টাকা প্রতি লিটার এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৯৫.২০ টাকা। যেখানে কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১১৩.৫১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৯.৮২ টাকা। শুধু এই দুই শহর নয় মুম্বাই, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর সহ অন্যান্য বড় শহরেও একইভাবে দাম বেড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রড অয়েলের দাম বেড়েছে। এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ ফুয়েল মার্কেটে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশের ওপর।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ির খরচই বাড়ে না, তার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। ট্রাক ও পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়লে বাজারে খাদ্যপণ্য, সবজি, দুধ, রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেট আরও চাপে পড়বে। এদিকে বিরোধী দলগুলি এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও কর কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া সম্ভব ছিল।
অন্যদিকে তেল সংস্থাগুলির বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া উপায় ছিল না। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ে, তাহলে আগামী সপ্তাহগুলিতেও পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির এই ধাক্কা এখনই থামছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।




