Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের মাইক্রো-ফাইন্যান্স খাত বর্তমানে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে, আর এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। গত কয়েক বছরে মাইক্রো – ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে ঋণ খেলাপি হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা এই ঋণের প্রধান গ্রাহক, তাদের আয়ের অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই সময়মতো ঋণ শোধ করতে পারছেন না। এর ফলে মাইক্রো-ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর চাপ বাড়ছে এবং তারা নতুন ঋণ দিতে অনেকটাই সতর্ক হয়ে পড়েছে।
পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, প্রায় ২ কোটিরও বেশি ছোট ঋণ গ্রহীতা ধীরে ধীরে এই আনুষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থার বাইরে চলে গেছেন। অর্থাৎ যারা এক সময় সহজে ক্ষুদ্রঋণ পেতেন, এখন তারা আর সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। এর ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যে লক্ষ্য দিল – তা বড় আঘাত খেয়েছে। আরেকটি বড় সমস্যা হলো তহবিলের সংকট। অনেক ব্যাংক ও বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন মাইক্রো ফাইন্যান্স সংস্থাগুলিকে ঋণ দিতে অনিচ্ছুক, কারণ ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ফলে স্মল ও মিডিয়াম মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থাগুলি টিকে থাকতেই নাজেহাল অবস্থা।
এই ক্রমোবর্ধমান সংকটের মোকাবিলায় সরকার একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। চালু করা হয়েছে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার একটি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকগুলিকে নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, মাইক্রো ফাইন্যান্স সংস্থাগুলিকে ঋণ দিকে যদি কোনো ক্ষতি হয়, তার একটি বড় অংশ সরকার বহন করবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—ব্যাংকগুলির আস্থা ফিরিয়ে আনা, যাতে তারা আবার মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থাগুলিকে ঋণ দেয়। এর ফলে এই সংস্থাগুলিও আবার সাধারণ মানুষের কাছে ঋণ পৌঁছে দিতে পারবে। অনুমান করা হচ্ছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা আবার উপকৃত হবেন।




