বিনিয়োগকারীরা যখনই বিনিয়োগ করেন তখন তাঁদের প্রাথমিক উদ্দেশ্যই থাকে কীভাবে সেই নির্দিষ্ট ইনভেস্টমেন্ট থেকে সর্বাধিক রিটার্ন পাওয়া যায়। আর এটা করতে গিয়ে কিছু কিছু সময় এমন হয়ে যায় যখন সেই ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে বিনিয়োগের আগে তেমনভাবে দেখা হয় না। মনে রাখতে হবে, সব ইনভেস্টমেন্টেরই কিছু না কিছু ঝুঁকি থাকেই। এবং ঝুঁকি সবসময় রিটার্নের সঙ্গে সমান অনুপাতে থাকে। অর্থাৎ যে বিনিয়োগে রিটার্ন বেশি সেখানে ঝুঁকিও বেশি থাকে সাধারণত।
এবার, mutual fund-এর ক্ষেত্রে রিটার্ন তো সহজেই তার XIRR বা CAGR দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকি সম্বন্ধে জানবেন কীভাবে? তার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি রেশিও যা দিয়ে কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে এবং তার ভোলাটিলিটি সম্পর্কে জানা যায়। এই রেশিওগুলো শুধুমাত্র কোনো একটি ফান্ডের ঝুঁকি বা ভোলাটিলিটি বুঝতেই সাহায্য করে তা নয়, সঠিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড বাছতেও প্রয়োজন এই রেশিওগুলো দেখা। চলুন তবে দেখে নেওয়া যাক এমনই কয়েকটি রেশিও যা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অস্থিরতা সম্পর্কে জানাবে।
Alpha : Alpha জানায় আপনার ইনভেস্টমেন্টের risk-adjusted performance কেমন। অর্থাৎ সহজ ভাষায় আপনার ফান্ডটি বেঞ্চমার্কের তুলনায় কতটা বেশি return দিতে পেরেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের স্কিমের alpha 2.0 থাকে তাহলে বুঝতে হবে ফান্ডটি বেঞ্চমার্কের থেকে 2% outperform করেছে অর্থাৎ বেঞ্চমার্কের তুলনায় 2% ভালো পারফর্ম করেছে। এই alpha-র মান positive বা negative দুটোই হতে পারে। ধরুন ABC mutual fund-এর বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স হল Sensex।
এবার আমরা ধরছি যে, কোনো এক বছর Sensex 15% return দিয়েছে। এবার ওই ABC fund-এর alpha-র মান যদি positive 2.0 হয় তার অর্থ হল ফান্ডটি বেঞ্চমার্কের থেকে outperform করেছে। বেঞ্চমার্ক যেখানে 15% return দিয়েছে সেখানে ফান্ডটি 17% return দিয়েছে। আবার ফান্ডটির alpha যদি negative 2.0 হত, তাহলে ধরা হত যে ফান্ডটি underperform করেছে এবং 13% return দিয়েছে।
Beta : বিটা দেখায় কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ড বাজারের ওঠানামার সঙ্গে কতটা সংবেদনশীল। অর্থাৎ কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ভোলাটিলিটি বোঝায় বিটার মান। এবার এখানে মার্কেট বলতে সাধারণত সেই ইনডেক্সটাকেই বোঝায় সেটা ওই নির্দিষ্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড অনুসরণ করে। কোনো index বা market-এর বিটা সবসময় 1 ধরা হয়। এখন যদি কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিটার মান 1-এর কম হয় তার অর্থ হল ফান্ডটি কম ভোলাটাইল আর ফান্ডের বিটার মান 1-এর বেশি হলে বুঝতে হবে ফান্ডটি বেশি ভোলাটাইল।
যেমন ধরুন, XYZ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিটার মান 0.60। তাহলে বুঝতে হবে বাজারের প্রতি 1 point ওঠা বা নামার জন্য ফান্ডটি 0.60 point ওঠে বা নামে। যদি আপনি কম ঝুঁকিযুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ড বাছতে চান তাহলে বিটার মান কম রয়েছে এমন ফান্ড বাছতে পারেন।
R2 বা R-Squared : বিটার মান দেখার পাশাপাশি আরও একটি রেশিও যা দেখা প্রয়োজন সেটা হল R2 না R-Squared। এই পরিমাপটি বোঝায় যে, কোনো একটি ফান্ডের movement তার বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের movement কে কতটা অনুকরণ করছে। R-Squared-এর মান 0 থেকে 100-এর মধ্যে থাকে। R-Squared-এর মান 80-এর উপরে থাকতে হবে তবেই বোঝা যাবে ফান্ডের সঙ্গে ইনডেক্সের পারস্পরিক সম্পর্কটা বেশি অর্থাৎ ফান্ড বেশি করে ইনডেক্সকে follow করছে।
Standard deviation: Standard deviation দেখায় যে গড় বা average থেকে কোনো data অথবা তথ্যের কতটা পার্থক্য রয়েছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে standard deviation কী দেখায়? এটি দেখায় যে, কোনো ফান্ডের অতীতের পারফরমেন্সের ভিত্তিতে ফান্ডটি সম্ভাব্য গড় রিটার্নের তুলনায় আসলে কতটা রিটার্ন দিচ্ছে।
যেমন, ধরুন কোনো একটি ফান্ডের পোর্টফোলিও দেখাচ্ছে যে ফান্ডটির standard deviation 6% এবং average বা গড় রিটার্ন 10%। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে তার সম্ভাব্য গড় রিটার্নের (10%) তুলনায় ব্যান্ডটি 6% পার্থক্যে রিটার্ন জেনারেট করে অর্থাৎ মোটামুটি 4% থেকে 14%-এর মধ্যে রিটার্ন দিচ্ছে।
Sharpe’s Ratio : কোনো ফান্ডের standard deviation-কে কাজে লাগিয়ে এই রেশিও দেখায় যে ফান্ডটির ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিটার্ন কেমন। Sharpe’s ratio বেশি হওয়া মানে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ এবং রিটার্নও সাধারণ ঝুঁকিবিহীন রিটার্নের থেকে ততটাই বেশি। অর্থাৎ সহজে বললে Sharpe’s ratio যত বেশি হবে ফান্ডটির রিটার্ন আর ঝুঁকির মাত্রাও তত বাড়বে।





