যখন আপনি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেন তখন বিনিয়োগ লক্ষ্য পূরণ না হওয়া অবধি বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে আপনি বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্যে বিনিয়োগ করছেন যেমন বিনিয়োগ লক্ষ্য, ঝুঁকি, মেয়াদ ইত্যাদি কিন্তু সবসময় একই থাকে না। জীবনের বিভিন্ন সময়ে এই জিনিসগুলি পরিবর্তন হতে থাকে।
সেই কারণে আপনি সঠিক পথেই বিনিয়োগ করছেন সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে সময়ে সময়ে নিজের মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পোর্টফোলিও দেখা উচিত। আর এটি দেখার ক্ষেত্রে রিভিউ এবং রিব্যালেন্সিং দরকারি দুটি পদ্ধতি যার সাহয্যে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে, বিনিয়োগ লক্ষ্যে আপনি ঠিক যাচ্ছেন।
রিভিউ কেন জরুরি?
রিভিউ কথার আক্ষরিক অর্থ হল পুনরায় দেখা। ধরুন, আপনি এমন কোনো স্কিমে বিনিয়োগ করে রেখেছেন যেটা বেঞ্চমার্ক থেকে ক্রমাগত underperform করে চলেছে এমনকি নিজের peer scheme বা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী স্কিমগুলো থেকেও খারাপ ফলাফল করে চলেছে ক্রমাগত। স্বল্প মেয়াদের খারাপ ফলাফলকে খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও চলবে। তবে যদি দেখেন দীর্ঘমেয়াদে কোনো স্কিম ক্রমাগত খারাপ ফলাফল করছে এমনকি বুল মার্কেটেও ফলাফল খারাপই হচ্ছে তখন সেই বিনিয়োগের বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত। ফলে এই ধরনের underperforming মিউচ্যুয়াল ফান্ড সম্পর্কে জানতে পোর্টফোলিও review অবশ্যই প্রয়োজন। যদি আপনি ২-৩ মাস অন্তর নিজের পোর্টফোলিও রিভিউ করেন তাহলে এই ধরনের ফান্ড থেকে বিনিয়োগ তুলে নিয়ে তুলনায় ভালো বিকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ পেতে পারেন। এতে আপনার রিটার্নের পরিমাণও বাড়বে।
রিভিউ-এর সুবিধা :
ডাইভারসিফিকেশনের সুযোগ পাওয়া যায়: শেয়ার বাজারে সমস্ত অ্যাসেট ক্লাস একইরকম আচরণ করে না। সমস্ত অ্যাসেট একইদিকে movement করে না। যেমন ২০২০ সালে মহামারির সময়ে সোনা অন্যান্য asset class থেকে ভালো পারফর্ম করেছিল আবার বিগত কয়েকবছরে equity অন্য অ্যাসেটের তুলনায় বেশি ভালো ফল করছে। সেই কারণে প্রতিটি অ্যাসেট ক্লাসের মধ্যে diversification খুব দরকার। আপনি যদি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর পোর্টফোলিও রিভিউ করেন তাহলে প্রতিটি asset class-এ সঠিক allocation করা সম্ভব হবে।
অ্যাসেটের পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায় : অনেক সময়ে বিনিয়োগকারীরা একই ক্যাটাগরির একাধিক স্কিমে বিনিয়োগ করে ফেলেন। যেমন ধরুন, অনেকে ৩-৪টি লার্জ ক্যাপ ফান্ডে বিনিয়োগ করেছেন এবং ফান্ডগুলির হোল্ডিং দেখলে বোঝা যাবে তারা একই ধরনের স্টকে invested। এতে অতিরিক্ত ডাইভারসিফিকেশন হয়ে যায়, বা অ্যাসেটের পুনরাবৃত্তি হয়। নিয়মিত রিভিউ করলে এই ধরনের ভুল এড়ানো যায় ফলে রিটার্ন বাড়ানো সম্ভব হয়।
Rebalancing কী?
রিব্যালেন্সিং-এর অর্থ হল পুনরায় ব্যালেন্স করা। বিভিন্ন asset class-এর মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখতে asset allocation-এর সামঞ্জস্য তৈরি করাকে rebalancing করে।
কখন প্রয়োজন rebalancing-এর?
→ ধরুন আপনি equity fund, debt fund ও gold এই তিনটি অ্যাসেটে যথাক্রমে 70%, 20% ও 10% বিনিয়োগ করেছেন। এবার দেখা গেল equity দ্রুত বাড়তে লাগল ফলে আপনার মোট বিনিয়োগে equity-র percentage বেড়ে যাবে আর debt ও gold-এর percentage কমে যাবে, এতে আপনার বিনিয়োগ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই সময় ঝুঁকি কমাতে আপনি equity exposure কিছুটা কমিয়ে portfolio rebalance করতে পারেন।
→ আপনার ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতার কোনো রকম পরিবর্তন হলে পোর্টফোলিও রিব্যালেন্সিং দরকার। আপনার আয়ের কোনোরকম পরিবর্তন হলে বা নতুন কোনো বিনিয়োগ লক্ষ্য থাকলে পোর্টফোলিও-র পুনরায় ব্যালেন্সিং প্রয়োজন।
→ আমরা অনেকেই জানি equity mutual fund-এ সবসময় দীর্ঘমেয়াদের কথা ভেবেই বিনিয়োগ করা উচিত। অন্যদিকে debt fund স্বল্পমেয়াদের জন্য উপযোগী। ফলে যদি আপনার ৩-৫ বছরের বা তার বেশি বিনিয়োগের লক্ষ্য না থাকে তাহলে equity mutual fund এড়িয়ে চলা উচিত। যদি আপনার financial goal আগামী ১-২ বছরের মধ্যে হতে চলেছে এমন হয়, তাহলে equity mutual fund থেকে ইনভেস্টমেন্ট সরিয়ে debt-এ invest করা উচিত যাতে বাজারের ওঠানামা বিনিয়োগে প্রভাব না ফেলে।
সুতরাং বছরে অন্তত একবার নিজের পোর্টফোলিও রিব্যালেন্স অবশ্যই করুন এবং লক্ষ রাখুন আপনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অনুযায়ী আপনি সঠিক asset allocation করছেন কিনা। এছাড়াও অধিক স্কিমে বিনিয়োগ না করাই উচিত, এতে রিভিউ ও রিব্যালেন্সিং করে ওঠা কষ্টসাধ্য হবে।





