নাম শুনেই বোঝা যায় স্বল্প মূল্যে ট্রেড হওয়া স্টককে পেনি স্টক বলে এবং সাধারণত এদের মূল্য ১০ টাকার কম হয়। পেনি স্টক সাধারণত স্মল ক্যাপযুক্ত কোম্পানি ইস্যু করে বা সেই সমস্ত কোম্পানি ইস্যু করে যারা বর্তমানে কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ফলে পেনি স্টকের সঙ্গে অনেক বেশি ঝুঁকি জড়িয়ে থাকে আবার অনেক সময়ে পেনি স্টক মাল্টিব্যাগার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। সেই কারণে বিনিয়োগের আগে পেনি স্টকের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা উচিত।
পেনি স্টকে বিনিয়োগের সুবিধা:
কম মূল্য: পেনি স্টকে বিনিয়োগের সবচেয়ে সুবিধা হল এই স্টকের দাম খুব কম হয়। যদি আপনার কাছে বিনিয়োগ করার জন্য স্বল্প অর্থ থাকে তাহলে পেনি স্টকে বিনিয়োগের সুযোগ আপনার রয়েছে কারণ এখানে বিনিয়োগে একবারে অনেক অর্থের প্রয়োজন নেই।
বেশি রিটার্নের সম্ভাবনা: পেনি স্টকে বিশাল রিটার্নের সম্ভাবনা থাকে। কারণ কোনো কোম্পানি যাদের বর্তমানে স্টকের দাম খুব কম কিন্তু ম্যানেজমেন্ট ভালো সেইসব কোম্পানির স্টকে বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রচুর। ফলে কম দামে অর্থাৎ undervalue-তে কিনে ভবিষ্যতে ভালো রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে পেনি স্টকে।
প্রথম পর্যায়ে বিনিয়োগের সুযোগ: পেনি স্টক যারা ইস্যু করে তারা মূলত ছোটো সম্ভাবনাময় কোম্পানি হয়ে থাকে এবং বর্তমানে উন্নতির প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ early phase-এ থাকে। সেই কারণে যদি ভবিষ্যতে কোম্পানি নিজের দুর্দান্ত ফলাফল দেখাতে পারে তাহলে প্রচুর লাভের সুযোগ পান বিনিয়োগকারীরা।
ভোলাটিলিটি থেকে মুনাফা: স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামার ফলে মুনাফা লাভের সম্ভাবনা থাকে।
তবে সুবিধা থাকলেও বেশ অনেকগুলি ঝুঁকিও জড়িত থাকে পেনি স্টকের সঙ্গে।
স্বচ্ছতার অভাব: পেনি স্টক কেমন পারফর্ম করবে তা বোঝার বিশেষ উপায় নেই, কারণ কোনো ছক মেনে চলে না এই ধরনের স্টক। এমনকি পেনি স্টক ইস্যু করে যে কোম্পানিগুলি তাদের আর্থিক পরিস্থিতি বা পারফরমেন্স সম্পর্কে বোঝা বেশ কঠিন। এছাড়াও খুব বেশি তথ্য না থাকায় কোম্পানিগুলির ঝুঁকি সম্পর্কেও ঠিকঠাক মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না।
অনিশ্চিত দাম: পেনি স্টকের সঙ্গে সীমিত ট্রেডিং, স্বচ্ছতার অভাব এবং সম্ভাব্য জালিয়াতি জড়িয়ে থাকতে পারে। সেই কারণে এইসব কোম্পানির স্টকের দাম সত্যিই undervalued আছে নাকি কোম্পানির খারাপ ফলাফলের জন্য দাম কম সেই ব্যাপারে আগে থেকে বোঝা যায় না। ফলে পেনি স্টক থেকে যেমন মাল্টিব্যাগার হওয়ার সুযোগ থাকে তেমনই প্রচুর লস করে সমস্ত টাকা খোয়ানোর আশঙ্কাও থাকে।
লিক্যুইডিটি কম: পেনি স্টক বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত। সেই কারণে অনেক বিনিয়োগকারী পেনি স্টকে বিনিয়োগ এড়িয়ে চলেন। Penny stock-এ bid ও ask price-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকে। এই জন্যই অনেক বিনিয়োগকারী নিজেদের পছন্দের দামে ট্রেড execute করতে পারেন না, আর পেনি স্টকের liquidity কমে যায়। ফলে আপনি যদি এমন কোনো পেনি স্টকে বিনিয়োগ করে ফেলেন যার liquidity কম বা বাজারে লেনদেন কম হয় তাহলে আপনার অর্থ কোনো loss-making কোম্পানিতে আটকে থাকবে।
যেমন উদাহরণ হিসেবে brightcom group-এর স্টকের কথা বলা যায় যা বর্তমানে একটি পেনি স্টক। কোম্পানিটির স্টক সেবির নির্দেশ অনুযায়ী ‘Z’ category-তে ট্রেড করছে এবং শুধুমাত্র সপ্তাহের প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার ট্রেডিং চলছে স্টকটির। তা-ও ask ও bid price-এর বিশাল পার্থক্যের কারণে কেনাবেচাও খুব কম হচ্ছে এই স্টকে। অর্থাৎ স্টকটি বর্তমানে প্রায় illiquid।
জালিয়াতি: পেনি স্টকের সঙ্গে অনেক জালিয়াতি জড়িয়ে থাকে। Pump and dump-এর মতো ঘটনা এই স্টকের ট্রেডিং-এ দেখা যায়। Pump & dump হল এমন একটি জালিয়াতি যেখানে কৃত্রিমভাবে স্টকের দাম বাড়ানো হয় বিভিন্ন ভুয়ো খবরের মাধ্যমে। ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে দাম বেড়ে গেলে এই জালিয়াতরা বিশাল profit করে দলে দলে ট্রেড থেকে exit করে এবং দাম হঠাৎ করে অনেকটা কমে আসে।
বিনিয়োগের আগে কী খেয়াল করবেন?
→ নিজে রিসার্চ করুন: পেনি স্টক নতুন কোনো কোম্পানি বা স্মল মার্কেট ক্যাপযুক্ত কোম্পানি ইস্যু করে থাকে। ফলে এই ধরনের স্টক বা কোম্পানি সম্পর্কে বিশদে জানা দরকার। কোম্পানি সম্পর্কে না জেনে পেনি স্টকে বিনিয়োগ করবেন না।
→ স্বল্প বিনিয়োগ করুন: আপনি যতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন বা যতটা ক্ষতি আপনি নিতে পারবেন ততটাই অর্থ বিনিয়োগ করুন Penny stock-এ।
→ স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগ করুন: পেনি স্টকে দামের কোনো নিশ্চয়তা নেই। দাম হঠাৎ অনেকটা বাড়তে পারে আবার একদম কমে গিয়ে প্রচুর লস-ও হতে পারে। সেইকারণে short-term-এর জন্য বিনিয়োগ করাই ভালো পেনি স্টকে, যাতে দামের সামান্য বৃদ্ধিতে প্রফিট বুক করা যায়।
শেষে এইটুকুই বলা যায়, পেনি স্টকে প্রচুর সম্ভাবনা থাকলেও সেইসব গ্রোথ বা বৃদ্ধির কোনো নিশ্চয়তা নেই। দামের অনিশ্চয়তা, কম লিক্যুইডিটি ইত্যাদির কারণে অনেক বেশি ঝুঁকি রয়েছে এই ধরনের স্টকে। তাছাড়াও পেনি স্টক ইস্যুকারী কোম্পানি সম্পর্কে অধিক তথ্য উপস্থিত না থাকায় স্টকগুলি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। তাই ভুয়ো কোনো খবরে বা কোনো স্ক্যামে পড়ে পেনি স্টকে বিনিয়োগ করবেন না। নিজে রিসার্চ করে জেনে, ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত হয়ে বিনিয়োগ করবেন।





