buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
Investment

বিনিয়োগের কয়েকটি থাম্ব রুল জেনে সফল বিনিয়োগকারী হোন

জীবনে অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলি যথাযথ এবং সুষ্ঠুভাবে নিতে হলে বিনিয়োগ একান্ত প্রয়োজন। আপনার সম্পত্তি বৃদ্ধি পেতে এবং আর্থিক লক্ষ্যগুলিতে পৌঁছতে সাহায্য করে বিনিয়োগ। তবে বিনিয়োগ করার কিছু নিয়ম যদি আপনি জেনে নেন, তাহলে তা আপনার বিনিয়োগ যাত্রা সহজ করবে। আজকের আলোচনায় আমরা তেমনই কয়েকটি নিয়ম নিয়ে কথা বলব যা অনুসরণ করে আপনি সঠিক বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবেন। 

10

থাম্ব রুল কী?

থাম্ব রুল আপনাকে আপনার বিনিয়োগে সহায়তা করবে এবং যথাযথ নির্দেশিকা দেবে। বিনিয়োগের প্র্যাকটিকাল অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে এই নিয়মগুলি তৈরি হয়েছে। এখানে ক্যালকুলেশন বা গণনা যে সবসময় খুব নিখুঁত হয় তা নয়, বরং বিনিয়োগের ফলে হাতেনাতে পাওয়া অভিজ্ঞতাগুলিকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য একটা হিসাব দেয় এই থাম্বরুলগুলি। এই নিয়মগুলি খুব দ্রুত ও সহজে মোটামুটি একটা ধারণা তৈরি করে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আসুন দেখে নিই সেইরকম কয়েকটি নিয়ম এবং কীভাবে আপনার বিনিয়োগে ব্যবহার করবেন তা-ও দেখব।

Rule 72:  এই নিয়মটি দিয়ে সহজে এবং দ্রুত আপনি মোটামুটি অনুমান করতে পারবেন যে আপনার বিনিয়োগ কত সময় পর দ্বিগুণ হবে। কীভাবে ব্যবহার করবেন এই নিয়মটি? আপনার বিনিয়োগের সম্ভাব্য রিটার্ন দিয়ে 72-কে ভাগ করুন। উত্তরে যে সংখ্যাটি পাবেন সেটিই হল সেই সময় যার মধ্যে বিনিয়োগটি দ্বিগুণ হবে। যেমন, ধরুন, আপনি একটি ১,০০,০০০ টাকার lump sum বিনিয়োগ করেছেন। যেখানে রিটার্ন 9%। তাহলে আপনার ১ লাখ টাকার বিনিয়োগ দ্বিগুণ অর্থাৎ ২ লাখ হবে (72 /9) = আট বছরে।

এই নিয়মটি শুধুমাত্র কম্পাউন্ডিং ইন্টারেস্ট প্রদান করে এমন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই কাজে দেবে। এমনকি এটি আপনি উল্টো আরেকটি তথ্য জানতেও ব্যবহার করতে পারেন। 72 rule ব্যবহার করে আপনি জানতে পারবেন নির্দিষ্ট সময়ে আপনার বিনিয়োগ দ্বিগুণ করতে কত রিটার্ন পাওয়া প্রয়োজন। যেমন ধরুন, আপনি ১ লাখ টাকা ২ লাখ করতে চাইছেন চার বছরে। সুতরাং আপনার বিনিয়োগ থেকে কত রিটার্ন প্রয়োজন হবে? (72 /4) = 18%। আপনি যদি বিনিয়োগটি থেকে 18% রিটার্ন পান তবেই চার বছরে আপনার বিনিয়োগটি দ্বিগুণ হবে। 

Rule 114:  এই নিয়মটি অনেকটা rule 72-এর মতোই। তবে rule 72-তে যেমন কত সময় পর অর্থ দ্বিগুণ হবে তা জানা যায়, এখানে জানা যায় কত সময় পর বিনিয়োগ তিনগুণ হয়। সম্ভাব্য রিটার্ন দিয়ে 114-কে ভাগ করলে যে উত্তরটি পাওয়া যাবে সেটিই হল সেই নির্দিষ্ট সময় যখন বিনিয়োগটি তিনগুণ হবে। 

যেমন যদি আপনি ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে সম্ভাব্য 10% রিটার্ন পান তাহলে ১লাখ টাকা তিনগুণ অর্থাৎ ৩ লাখ টাকা হবে (114 / 10) = 11.4 বছর পর। 

আবার যদি আপনি জানতে চান কত শতাংশ রিটার্নে আপনার ১ লাখের বিনিয়োগ ১১.৪ বছর পর ৩ লাখ হবে তাহলে 114-কে বছর সংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হবে, অর্থাৎ (114 / 11.4) = 10%।

Rule 144:  

 দুটি নিয়মের মতোই এই নিয়মটিও। এখানে জানা যায় কত সময় পর আপনার বিনিয়োগ চারগুণ হবে। 

ধরা যাক আপনি ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন যাতে 12% রিটার্ন পাচ্ছেন। সুতরাং এই ১ লাখ টাকা চারগুণ অর্থাৎ ৪ লাখ টাকা হতে সময় লাগবে (144 / 12) =12 বছর।  একইভাবে যদি জানতে চান ১ লাখ টাকা যদি ৮ বছরে চারগুণ করতে হয় তাহলে কত rate of return প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে 144-কে বছর সংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হবে। অর্থাৎ (144 / 8) = 18%। অর্থাৎ ৮ বছরে ১ লাখ টাকা চারগুণ করতে 18% rate of interest প্রয়োজন। 

9

Minimum 10% rule:  এই নিয়মটি বলে যে প্রতিমাসে আপনার আয়ের অন্তত 10% দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন, এবং সেটা বার্ধক্যের জন্যও হতে পারে। এবং শুধু তাই নয় প্রতি বছর আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে বিনিয়োগ 10% করে বাড়ানো উচিত।

অর্থাৎ যদি আপনি মাসে ৩০,০০০ টাকা আয় করে থাকেন তাহলে অন্তত (30,000 * 10%) =৩০০০ টাকা long-term বিনিয়োগ করা জরুরি প্রতি মাসে। 

5% rule:  5% rule অনুযায়ী বলা হয় কোনো বিনিয়োগকারীরই নিজের মোট investment portfolio-র 5%-এর বেশি কোনো একটি investment-এ বরাদ্দ করা উচিত নয়। এতে পোর্টফোলিও diversify হয় এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

100 minus Age rule:  আপনি কতটা equity ও কতটা debt-এ বিনিয়োগ করবেন তার জন্য এই নিয়মটি। ১০০ থেকে আপনার বয়স বাদ দিলে যে সংখ্যাটি আসবে সেটিই দেখাবে আপনার equity exposure কত হওয়া উচিত। ধরুন বর্তমানে আপনার বয়স ৩০ বছর। তাহলে এই নিয়ম অনুযায়ী (100 – 30) = 70% হবে আপনার equity exposure এবং বাকি 30% হবে debt investment। এবার বয়স যত বাড়তে থাকবে equity exposure কমে debt exposure বাড়বে। 

4% withdrawal rule:  প্রত্যেকে নিজের বার্ধক্যের জন্য সঞ্চয় করে। তবে মুদ্রাস্ফীতি বা অন্যান্য অনিশ্চয়তার কারণে দিনদিন সেই অর্থের পরিমাণ কমে আসে। 4% withdrawal নিয়ম মানলে আপনার জমানো অর্থ অবসরের পর ধারাবাহিক আয়ের উৎস হয়ে থাকবে। যেমন ধরুন, আপনি বার্ধক্যের জন্য ১ কোটি টাকা সঞ্চয় করেছেন। আপনি প্রতি বছর যদি ১ কোটির 4% অর্থাৎ ৪ লাখ টাকা withdraw করেন তাহলে আপনার জমানো অর্থ দিয়ে ভালোভাবে অবসর জীবন কেটে যাবে। 

30X retirement rule:  আমরা যখন উপার্জন করা শুরু করি, শুরুর দিকে অবসরের পরিকল্পনা সব পরিকল্পনার শেষে আসে। কিন্তু মনে রাখবেন যত তাড়াতাড়ি আপনি অবসরের জন্য সঞ্চয় করবেন তত আপনার বার্ধক্য জীবন চিন্তামুক্ত থাকবে। 30X রিটায়ারমেন্ট rule অনুযায়ী যদি আপনি নিজের বার্ষিক খরচের ৩০ গুণ অর্থ বার্ধক্যের আগে সঞ্চয় করতে পারেন তাহলে এই পরিমাণ অর্থ আপনার বার্ধক্যে ভালোভাবে বাঁচার জন্য যথেষ্ট হবে। অর্থাৎ যদি আপনার বার্ষিক খরচ হয় ৫ লাখ টাকা হয় তাহলে অবসর জীবনের জন্য আপনার (5,00,000 * 30) = ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা যথেষ্ট হবে। 

Emergency Fund rule:  আর্থিক জরুরি অবস্থা যখন-তখন আসতে পারে, তা সে চিকিৎসাজনিত খরচ হোক বা অন্য যে-কোনো জরুরি অবস্থা হোক না কেন। সেইজন্য বিনিয়োগের পাশাপাশি আপনার একটি emergency fund থাকা অত্যাবশ্যক। কতটা ফান্ড emergency হিসাবে রাখবেন? বলা হয় মাসিক খরচের অন্তত ৬ গুণ টাকা অবশ্যই emergency fund হিসেবে রাখা দরকার। অর্থাৎ যদি আপনার মাসিক খরচ হয় 20000 টাকা তাহলে (20,000 * 6) = ১,২০,০০০ টাকা অবশ্যই emergency fund হিসেবে আলাদা করে রাখুন। 

আমরা এতক্ষণ বিনিয়োগের বিভিন্ন থাম্ব রুল নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তবে মনে রাখবেন থাম্ব রুল মানেই সেটি অপরিবর্তিত নয়। আপনি কতটা equity exposure-এ স্বচ্ছন্দ, কতটা retirement-এর জন্য সঞ্চয় করতে চান ইত্যাদি সবকিছুই ব্যক্তি বিশেষে আলাদা আলাদা হবে। ঝুঁকি, বিনিয়োগ লক্ষ্য আগে থেকে বিবেচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading