Article By – সুনন্দা সেন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতেই দেশের বুলিয়ন বাজারে দেখা গেল তীব্র অস্থিরতা। ইরান-কে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা ও রুপোর দিকে ঝুঁকেছেন। সোমবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা MCX-এ সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি প্রায় ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। একই সঙ্গে রুপোর দাম কেজি প্রতি প্রায় ৯,৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। একদিনে এত বড় উত্থান সাম্প্রতিক সময়ে বিরল বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লেই সোনা ঐতিহ্যগতভাবে ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। যুদ্ধ বা ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সময়ে শেয়ার বাজারে পতনের আশঙ্কা থাকে, মুদ্রার দামে ওঠানামা হয়, আর তখনই বিনিয়োগকারীরা মূলধন রক্ষার জন্য সোনায় বিনিয়োগ বাড়ান। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুধু দেশীয় বাজার নয়, আন্তর্জাতিক কমেক্স বাজারেও সোনা ও রুপোর দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয় বা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে সোনার দামে আরও বড় র্যালি দেখা যেতে পারে।
কিছু বাজার বিশ্লেষক ইঙ্গিত দিচ্ছেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সোনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। তবে সতর্কবার্তাও দিচ্ছেন অনেকেই। অতীতে দেখা গেছে, হঠাৎ উত্তেজনার জেরে দাম দ্রুত বাড়লেও পরিস্থিতি শান্ত হলে একই গতিতে দাম নেমেও এসেছে। ফলে এই উত্থান কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, মার্কিন ডলারের শক্তি, সুদের হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচকের ওপর। ভারতে বিয়ের মরশুম সামনে থাকায় গয়নার চাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হঠাৎ দাম বৃদ্ধির ফলে খুচরো ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা তৈরি হতে পারে। অনেকেই এখন অপেক্ষা করছেন দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার জন্য।




