Article By – সুনন্দা সেন

গত ছয় মাসে ভারতে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) প্রবাহ বেড়ে প্রায় ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান ভারতের অর্থনীতির উপর বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির স্পষ্ঠ ইঙ্গিত দিচ্ছে। শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন দপ্তর বা DPIIT দ্বারা প্রকাশিত তথ্য থেকে বিষয়টি জানা গেছে। আর সরকারি অধিকারিদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে FDI নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধু ভোগভিত্তিক বা স্বল্পমেয়াদি লাভের ক্ষেত্রেই নয়, বরং দেশের উৎপাদন খাত, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক স্টার্টআপগুলির সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকে যুক্ত করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো; ভারতে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করা এবং দেশকে একটি বিশ্বমানের উৎপাদন ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। সরকার বিশেষ করে ডিপ-টেক, সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন এনার্জি, ইলেকট্রনিক্স এবং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলিকে বড় শিল্প সংস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাইছে। এতে নতুন প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ যেমন সহজ হবে, তেমনই কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে DPIIT জানিয়েছে, গবেষণা ও উন্নয়নকে উৎসাহ দিতে সরকার প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার একটি RND তহবিল গঠনের দিকেও কাজ করছে।
আর এই তহবিল স্টার্টআপ এবং নতুন উদ্যোগগুলিকে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় সহায়তা করবে, যেখানে ফল পেতে সময় লাগলেও উদ্ভাবনের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এছাড়াও বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে স্টার্টআপে বিনিয়োগ বা অংশীদারিত্বের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন স্টার্টআপরা পুঁজি ও বাজার পাবে, অন্যদিকে বড় সংস্থাগুলিও নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুবিধা নিতে পারবে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহযোগিতামূলক মডেলই ভবিষ্যতে ভারতের শিল্পোন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।




