Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। মার্চ, ২০২৬-এ এই পর্যন্ত বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা FIIs ভারতীয় ইক্যুইটি বাজার থেকে ৫২,৭০৪ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ মার্চ, ২০২৬ (শুক্রবার) ছিল এই বছরের সবচেয়ে বড় একদিনের বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিক্রির দিনগুলোর একটি। এই বড়সড় বিক্রির পেছনে একসঙ্গে কাজ করছে একাধিক কারণ। যার মধ্যে রয়েছে – পশ্চিম এশিয়ার বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের দামে উর্ধ্বগতি ভারতের মতো আমদানি নির্ভর অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।
ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরি লিমিটেড বা NSDL-এর ‘ডেইলি ট্রেন্ডস ইন FPI ইনভেস্টমেন্টস’ রিপোর্টেও মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগের ওঠানামা এবং শেয়ার বিক্রির চাপের ইঙ্গিত মিলছে। অর্থাৎ শুধু সংবাদ প্রতিবেদন নয়, বাজারের অফিসিয়াল ডেটাতেও বিদেশী অর্থপ্রবাহে দুর্বলতা ধরা পড়ছে। অবশ্য পুরো চিত্রটা নেতিবাচক নয়। কারণ যখন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে টাকা তুলছেন, তখন দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বা DIIs অনেক ক্ষেত্রেই সেই চাপ সামলানোর চেষ্টা করছে। তবুও FIIs-এর ধারাবাহিক বিক্রি বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, একই অস্থিরতার মধ্যে সেনসেক্স ১,৪৭০.৫০ পয়েন্ট কমে ৭৪,৫৬৩.৯২- এবং নিফটি ৪৮৮.০৫ পয়েন্ট কমে ২৩,১৫১.১০-এ লেনদেন শেষ করেছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভারতীয় বাজারে এখনও প্রিমিয়াম ভ্যালুয়েশন, তেল সংক্রান্ত ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা – এই তিনটি বড় ফ্যাক্টর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের দূরে রাখছে। ফেব্রুয়ারিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবাহ দেখা গেলেও মার্চে সেই ছবিতে আবার বড় পরিবর্তন এসেছে। মার্চের শুরুতেই বিদেশি তহবিলের বড়সড় প্রত্যাহারের ইঙ্গিত মিলেছিল, আর এখন মাসের মাঝামাঝি এসে তা আরও প্রকট হয়েছে।




