Article By – সুনন্দা সেন

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FIIs) প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ভারতীয় ইকুইটি বিক্রী করেছে। যা বিদেশীদের সম্ভাব্য প্রস্থান সম্পর্কে বাজারে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে এই বিক্রির কারণে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই, এটি লাভ-বুকিং। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য লাভ করছেন। NSDL- এর FPI মনিটরের তথ্য থেকে দেখা যায় যে গত দশ মাসের মধ্যে ছয় মাসেই বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPIs) নিট বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেছেন। তাদের মোট বাজার মূল্য ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ৯৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে থেকে কমে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ৮২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।
এই পতন বিক্রয় এবং বৃহত্তর বাজার সংশোধনের মিশ্রণ। এদিকে আরও জানা যাচ্ছে যে এই সময়ের মধ্যে ভারতীয় ইক্যুইটি গড়ে ভারতীয় রুপি বা টাকার নিরিখে ৫% এবং ডলারের নিরিখে ১০% কমেছে। তবুও বিক্রির পরিমাণ FPI হোল্ডিংয়ের মাত্র ২.৩%। যা ইঙ্গিত দেয় যে FII সম্পূর্ণরূপে বেরিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে এক্সপোজার কমিয়ে আনছে। আর এমন সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ হিসেবে উদীয়মান বাজারের তুলনায় ভারতের তুলনামূলকভাবে ভালো পারফর্ম্যান্স করছে। তাই বিনিয়োগের পরিবর্তে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা হতাশার কারণে তহবিল প্রত্যাহার করার পরিবর্তে মুনাফা বুকিং এবং পুনঃবণ্টন করার পরিকল্পনাকে উচিৎ বলে নির্বাচন করছেন।
অর্থাৎ বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন এমন নয়, দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলকভাবে ভালো পারফর্ম্যান্সের কারণে তারা তাদের ভারত বরাদ্দের উপর ‘প্রোফিট বুকিং’ করছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্ক করতে বারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে গত ১০ বছরে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এত কম বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে ভারত। তাই ইতিমধ্যেই ভারতে বিনিয়োগের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে এই পরিমাণ আরও কমলে অসুবিধায় পড়তে পারে ভারতীয় শেয়ার বাজার। অরবিন্দ চারী একজন চিন্তাবিদ এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একজন, তিনি বিশেষ করে ভারতে বরাদ্দের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।




