Article By – সুনন্দা সেন

বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা বা FPIs আবার ভারতীয় শেয়ারে টাকা ঢালতে শুরু করেছে। জুলাইয়ে প্রায় ২০,২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পর আগস্টেও বিদেশি বিনিয়োগের ধারা বজায় রয়েছে। ২৭ আগস্ট,২০২৬ পর্যন্ত আগস্টের FPI প্রবাহ (inflow) প্রায় ২১,১৮৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে; যা সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এর পর সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাহ। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলার, আর টাকা দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারে প্রায় ৯৫.৫ টাকায় রয়েছে। তেলের দাম দীর্ঘসময় এতটা বেশি থাকলে ভারতের আমদানি বিল, মুদ্রাস্ফীতি, চলতি হিসাব এবং টাকার উপর চাপ বাড়তে পারে।
এমন অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের বেশকিছু মনে রাখতে হবে, আর সেগুলি হল –
- প্রথমত, বিদেশী বিনিয়োগ দেখে হঠাৎ করে বাজারে ঝাঁপ দেওয়া ঠিক হবে না। বিদেশি বিনিয়োগ ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু ২০২৬ সালে FPIs এখনও সামগ্রিকভাবে বড় অঙ্কের নেট সেলার। অর্থাৎ জুলাই-আগস্টের বিনিয়োগকে এখনই দীর্ঘমেয়াদি লেনদেন প্রবণতা হিসেবে ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
- দ্বিতীয়ত, যুক্তিপন্ন বিনিয়োগ বা ধাপে ধাপে বিনিয়োগই এখন বেশি যুক্তিযুক্ত। বাজারে একবারে পুরো টাকা না ঢুকিয়ে কয়েকটি ধাপে বিনিয়োগ করলে ক্রুড বা জিওপোলিটিক্যাল পরিস্থিতির কারণে বাজারে কারেকশানের এলে সুযোগ নেওয়া যায়। PL সম্পদও আগামী ছয় মাসের জন্য কোয়ালিটি লার্জ ক্যাপ এবং লার্জ এন্ড মিড ক্যাপে স্টেগারেদ ডিপ্লয়মেন্টের পক্ষে মত দিয়েছে।
- তৃতীয়ত, কোয়ালিটিকে অগ্রভাগ দিতে হবে। বিশেষ করে উপার্জন, ভালো ব্যালেন্স শীট এবং যুক্তিসঙ্গত মূল্যায়ন বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় বেসরকারি ব্যাংক, মূলধনী পণ্য এবং ভোক্তা টেকসই পণ্য-এর মতো দেশীয় চাহিদা-চালিত খাতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
- চতুর্থত, অতিরিক্ত এবং দামী মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ স্টক থেকে সতর্ক থাকুন। বিদেশি টাকা ফিরেছে বলে মূল্যায়ন যতই বেশি, শুধু মোমেন্টাম স্টক হওয়া ঠিক হবে না। বর্তমান সেক্টর ও স্টক নির্বাচন বিস্তৃত ভিত্তিক সমাবেশ (stock selection broad-based)-এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ভারতের জন্য ৯২ ডলার ক্রুড একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। তেল যদি আরও বাড়ে এবং দীর্ঘদিন উচ্চস্তরে থাকে, তাহলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ (inflationary pressure) বাড়তে পারে এবং RBI-এর আর্থিক শিথিলতা (monetary easing)-এর সুযোগ সীমিত হতে পারে। একইসঙ্গে দুর্বল টাকা আমদানিকৃত মুদ্রাস্ফীতি (imported inflation)-এর চাপ আরও বাড়াতে পারে।




