Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ব ধাতু বাজারে চলছে অভূতপূর্ব উত্থান। নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে বিনিয়োগকারীদের ঢল নামায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৪,৫০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। একই সঙ্গে রুপো ও প্ল্যাটিনামও সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে, যা গোটা পণ্যবাজারে আলোড়ন ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির মূল কারণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের চলমান সংঘাত, বড় অর্থনীতিগুলির মন্থর বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে টেনে নিচ্ছে।
পাশাপাশি, বহু দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় আকারে সোনা কিনছে, যা দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। অবশ্য রুপোর ক্ষেত্রে চাহিদা আরও বহুমুখী। বিনিয়োগ চাহিদার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যান এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে ব্যাপক ব্যবহারের কারণে রুপোর শিল্পগত চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সবুজ শক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে রুপোর সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য আরও টানটান হয়ে উঠেছে, যার ফলেই দাম পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়। আর প্ল্যাটিনামও এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে কম দামে থাকার পর হঠাৎ করেই প্ল্যাটিনামের চাহিদা বেড়েছে।
বিশেষ করে কার ইন্ডাস্ট্রির ক্যাটালিটিক কনভার্টারে ব্যবহারের কারণে দুই ধাতুর চাহিদা শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে বড় উৎপাদক দেশগুলিতে সরবরাহ সমস্যা দাম বাড়িয়েছে। ডলারের দুর্বলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে ফেডসহ বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সুদহীন সম্পদ যেমন সোনা ও রুপোর প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এত দ্রুত দামের উত্থানের ফলে সামনে বড় ওঠানামা বা মুনাফা তোলার চাপ দেখা দিতে পারে। স্বল্পমেয়াদে সংশোধন হলেও দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবান ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো শক্তিশালী।




