Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের শেয়ারবাজারে আসতে চলেছে এক বড়সড় IPO স্ট্রম। প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার IPO বর্তমানে পাইপলাইনে রয়েছে, যা দেশের পুঁজিবাজারে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বিশাল তালিকার শীর্ষে রয়েছে রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio)। সংস্থাটি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে IPO আনতে পারে বলে জোর জল্পনা চলছে। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই IPO ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম হতে পারে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একটি IPO-ই বাজারে নতুন আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
এছাড়াও, দ্রুত ডেলিভারি পরিষেবার জন্য পরিচিত জেপ্ট (Zepto)-ও বাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার IPO আনতে পারে এই স্টার্টআপ সংস্থা। এটি নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি-ভিত্তিক কোম্পানিগুলির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ই-কমার্স ক্ষেত্রে বড় নাম ফ্লিপকার্ট (Flipkart)-এর IPO নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে IPO সংক্রান্ত নথি জমা পড়েনি, তবে সংস্থাটির সম্ভাব্য মূল্যায়ন ৬০ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই তিনটি সংস্থার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি IPO আনার প্রস্তুতিতে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে PhonePe, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া (National Stock Exchange of India) এবং OYO। বিভিন্ন ক্ষেত্র—ফিনটেক, স্টক এক্সচেঞ্জ, হসপিটালিটি—থেকে এই সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ দেখাচ্ছে যে, IPO বা প্রাথমিক পাবলিক অফারের বাজারে বৈচিত্র্যও বাড়ছে। আর এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব।
অনেক সংস্থা ভালো মূল্যায়নের আশায় তাদের আইপিও পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছিল। ফলে এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় তারা একসঙ্গে বাজারে আসতে প্রস্তুত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে এলে খুব দ্রুত IPO- এর ঢল নামতে পারে। এতে একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে শেয়ারবাজারে লিক্যুইডিটি বা তারল্য বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ, ২০২৬ সাল ভারতের পুঁজিবাজারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বছর হতে চলেছে।




