Article By – সুনন্দা সেন

দিনের শুরু থেকেই বাজারে ছিল ইতিবাচক মনোভাব। বৈশ্বিক সুদের হার কমতে পারে। এই জল্পনা, সঙ্গে ভারতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা মিলিয়ে বাজারকে নতুন রেকর্ডে পৌঁছে দেয়। দুপুরে Sensex ৮৬,০০০–এর উপরে এবং Nifty ২৬,৩০০–এর ওপরে উঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করে। কিন্তু শেষ দেড় ঘণ্টায় চিত্রটা বদলাতে শুরু করে। কিছু বড় বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় সূচক গুলির গতি কমে আসে। দিনের শেষে BSE Sensex ১১০.৮৭ পয়েন্ট বা ০.১৩% বেড়ে ৮৫,৭২০.৮০-এ বন্ধ হয়, আর Nifty 50 ১০.২৫ পয়েন্ট বা ০.০৪% বাড়িয়ে ২৬,২১৫.৫৫-এ লেনদেন শেষ করে।
মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সেগমেন্টে চাপ কিছুটা বেশি ছিল। উচ্চ মূল্যায়নের উদ্বেগ ও অস্থির বৈদেশিক প্রবাহের কারণে এই দুই সূচক বড় সূচকের তুলনায় ফিকে পারফর্ম করে। তবুও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক প্রবণতা এখনো শক্তিশালী। অর্থনৈতিক গতি, শিল্পোৎপাদন এবং কর্পোরেট আয়ের ধারাবাহিকতা বাজারকে এগিয়ে দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করছেন যে, আগামী কয়েক প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি আরও গতি পেতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনোভাবও ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। মূল্যায়ন কিছুটা ঠাণ্ডা হওয়ায় এবং উন্নত দেশগুলিতে সুদের হার কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ভারতীয় ইকুইটি এখন আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রেকর্ড উচ্চতার বাজারে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। র্যালির পর ছোটখাটো সংশোধন স্বাভাবিক, এবং এখনই ‘সিলেক্টিভ স্টক পিকিং’-এর সময়। তার সাথে এই উত্থানের কারণ উল্লেখ করেছে, তা হলো:
- বাজারে অসাধারণ আশাবাদ তৈরি হয়েছে; কর্পোরেট আয় ফিরছে, মূল্যায়ন — যেটা আগের তুলনায় একটু কম, ফলে শেয়ার এখন “সুলভে” মনে হচ্ছে।
- বিদেশি এবং দেশীয় Institutional investors–র আকর্ষণ ফিরে আসছে; বিশেষ করে এমন কোম্পানিতে যেখানে ভবিষ্যতে বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
- পাশাপাশি, আশা করা হচ্ছে যে কদাচিৎ কেন্দ্রীয় এবং আন্তর্জাতিক হার-কাট হতে পারে। যা ব্যাংক, আর্থিক ও রেট-সংবেদনশীল শেয়ারগুলোর জন্য সুবিধাজনক।
বিনিয়োগকারীদের জন্য এর মানে, বাজারে মোটিভেশনের প্রবণতা নিশ্চিত করা হলেও, হয়তো সময়টা সকল শেয়ারে ঢুকে পড়ার নয়। আর ভালো বিশ্লেষণ ও ফান্ডামেন্টাল দেখে সিলেক্টিভ স্টক পিকিং করার জন্য এখনই সুযোগ রয়েছে এবং একই সময়, অতিরিক্ত উত্তেজনায় না গিয়ে সাবধানে পজিশন নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।




