Article By – সুনন্দা সেন

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রভাবে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা FII-এর বিক্রয় অব্যাহত রয়েছে। দুর্বল বৈশ্বিক ইঙ্গিতের কারণেও বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ার বাজারে পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং দিনে আজ (শুক্রবার) ভারতের শেয়ার বাজারের দুই বেঞ্চমার্ক সূচক, নিফটি এবং সেনসেক্স তীব্র পতনের সম্মুখীন হয়েছে। সেনসেক্স ১.৩% বা ৯৮৫.৫৪ পয়েন্ট কমে সর্বনিম্ন ৭৩,৬৫৮.৪৫ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে নিফটি ৫০ ১.৩১% বা ২৯৫.৯৫ পয়েন্ট কমে সর্বনিম্ন ২২,২৪৯.১০ পয়েন্টে লেনদেন করেছে। NSE এবং BSE-এর শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্থ স্টকের মধ্যে রয়েছে ইন্ডাসইন্ড ব্যাংক, টাটা স্টিল, M&M এবং HCL টেক।
জিওজিৎ ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের প্রধান ইনভেস্টমেন্ট স্ট্রেটিজিস্ট কৌশলবিদ ভি কে বিজয়কুমার (V K Vijaykumar) বলেন, “শেয়ার বাজার অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না এবং ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ঘোষণা বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারে প্রভাব ফেলছে। তার মধ্যে একটি দেশ হলো ভারত। আর এই প্রক্রিয়া নতুন বছরের প্রথম মাসগুলিতে চলবে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনুকূল হলেও অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে এশিয়ান দেশগুলির জন্য চ্যালেঞ্জিং।” তিনি আরও বলেন যে, নতুন শুল্ক নীতি ঘোষণার পর চীন কীভাবে প্রতিক্রিয়া করবে তাও দেখার বিষয় থাকবে। বর্তমানে চীনের সাথে US-এর বাণিজ্যিক যুদ্ধ এড়ানো গেলেও পরবর্তিতে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি শেয়ার বাজারগুলিতে আরও প্রভাব ফেলবে। তাই এমন অবস্থা কিছু অনুমান করা ভুল হবে।
রেলিগেয়ার ব্রোজিংয়ের অজিত মিশ্র উল্লেখ করেছেন, “শেষ দুই ট্রেডিং সেশনে অতিরিক্ত বিক্রয়ের কারণে ভরতীয় শেয়ার বাজার অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। উল্লেখযোগ্য সেক্টরগুলিকে লাগাতার বিক্রয় কেবল সেক্টরগুলিকে সীমাবদ্ধ করছে না। সমগ্র শেয়ার বাজার সূচকগুলিকে নীচে নামতে বাধ্য করছে। মিশ্র বর্তমানে বাজারের পতন দেখেও মার্চের জন্য আশাবাদী। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, মার্চ মাসে ভারতীয় শেয়ার বাজারে পুনরুদ্ধার সম্ভব। আর এটি আসবে মেক্রো নিউজ ফ্লোসের বেটার পারফর্ম এবং FII-এর বিক্রয়ের পরিমাণ কমে যাওয়া ফলে। সাথে জানান লার্জ-ক্যাপ ভ্যালুয়েশন ন্যায্য থাকবে। যে কারণে বিনিয়োগকারীরা সময়টিকে কাজে লাগিয়ে মূল্যবান মানের লার্জ-ক্যাপে বিনিয়োগ করতে পারেন।




