Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় IPO হতে চলেছে — আর সেই দৌড়ে আচমকাই ব্রেক কষলো ইলন মাস্কের SpaceX। যে কোম্পানির মূল্যায়ন ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে বলে আশা করা হচ্ছিল, সেই লক্ষ্য এখন নামিয়ে আনা হয়েছে অন্তত ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে — এটা কি শুধুই কৌশল, নাকি বিনিয়োগকারীদের ভয়ের ইঙ্গিত? মার্কিন সংবাদমাধ্যম Bloomberg-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, SpaceX এখন তাদের IPO বা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করছে। কোম্পানিটি এখনও প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার তুলতে চাইছে, যা হলে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় IPO।
তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে কোম্পানির আর্থিক তথ্যে। ২০২৫ সালে SpaceX-এর আয় বেড়ে হয়েছে ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু একইসঙ্গে কোম্পানিটি প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখেও পড়েছে। অর্থাৎ, আয় বাড়লেও খরচ আরও দ্রুত গতিতে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, SpaceX আর শুধু রকেট কোম্পানি নয়। Starlink স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, AI অবকাঠামো, এমনকি মহাকাশে ডেটা সেন্টার তৈরির স্বপ্ন সহ কোম্পানি নিজেকে ভবিষ্যতের “স্পেস-AI জায়ান্ট” হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু এখানেই বাড়ছে সংশয়।
কারণ সম্প্রতি SpaceX-এর Starship পরীক্ষায় পুরোপুরি সফলতা আসেনি। আবার কোম্পানির AI ও মহাকাশ প্রকল্পে বিপুল খরচও বিনিয়োগকারীদের ভাবাচ্ছে। ফলে IPO-র আগে বাজারের মন বুঝেই মূল্য কিছুটা কমানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আরেকটি বড় প্রশ্ন — এই IPO সফল হলে কি ইলন মাস্ক আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবেন? কারণ SpaceX-এর শেয়ার বাজারে এলেও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ মূলত মাস্কের হাতেই থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। আর সেই কারণেই অনেকে বলছেন, এটি শুধু একটি IPO নয়, বরং “মহাকাশ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বিশাল বাজি”।
তাই এখন নজর থাকবে গোটা জুন মাসে। কারণ তখনই শুরু হতে পারে IPO-এর আনুষ্ঠানিক প্রচার। আর সেখানেই বোঝা যাবে যে, বিনিয়োগকারীরা কি এখনও ইলন মাস্কের মহাকাশ স্বপ্নে বিশ্বাস রাখছেন, নাকি ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের এই সাম্রাজ্যও ধাক্কা খেতে চলেছে।




