মধ্যবিত্তদের ক্ষমতা থাকেনা মাসে একটি বিরাট অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করার। তা বলেকি তারা কোটিপতি হতে পারবেন না? উত্তর হলো অবশ্যই পারবেন। কিন্তু এটি তখনই সম্ভব হবে যখন নিয়ম করে বিনিয়োগ করা হবে। কোটিপতি হতে গেলে দিনে সামান্য পরিমান অর্থ হলেও বিনিয়োগ বা সঁঞ্চয় করা আবশ্যক। যদি কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ টাকা করে SIP- তে বিনিয়োগ করেন এবং ১২% সুদের হারে রিটার্ন পান তাহলেও একটি নির্দিষ্ট সময় পরে ব্যক্তিটি কোটিপতি হবে। অবশ্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডে গড় রিটার্ণ সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, এমনকি হয়েও থাকে।
কেবল অর্থনৈতিক দিক থেকে সবল নয় SIP মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিজের চাহিদা পূরণের কাজেও সাহায্য করে থাকে। হিসাব দেখার আগে চলুন দেখে নেওয়া যাক SIP মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সুবিধা:-
- প্রথমত SIP- এর মাধ্যমে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ নূন্যতম অর্থ, যেমন: মাসিক ৫০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করা যায়।
- Fixed Deposit এবং Recurring Deposits– এর তুলনায় SIP দ্বিগুন রিটার্ন প্রদান করে।
- SIP- এর সব চেয়ে বড় লাভ হল বাজার যখন ডাউনে থাকবে তখন SIP- এর মাধ্যমে কম অর্থে বেশি পরিমানে বিনিয়োগ করতে সুযোগ পান।
- আপনি নিজের অর্থনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী SIP- এর ক্ষেত্রে বিনিয়োগের অর্থ বাড়াতে বা কমাতে পারেন। অর্থাৎ SIP মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আর একটি অন্যতম সুবিধা হল Flexibility।
- SIP- এর মাধ্যমে আপনারা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ পেয়ে থাকেন। দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করা স্বল্প পরিমাণ অর্থ এককালীন বিনিয়োগের থেকে ভালো রিটার্ন প্রদান করে।
- SIP বিনিয়োগ যেহেতু একটি Open- ended Fund হয়ে থাকে। তাই আপনি কোনো বাধা ছাড়াই অর্থ রিডিম করার সুযোগ পান।

এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক দৈনিক ১০০ টাকা করে কত বছর ধরে বিনিয়োগ করার পর একজন ব্যক্তি কোটিপতি হতে পারবেন।-
প্রথমত, প্রতিদিন ১০০ টাকা করে জমালে মাসে ৩০০০ টাকা হয়, অর্থাৎ মাসিক SIP হল ৩০০০ টাকা।
দ্বিতীয়ত, নূন্যতম ৩০ বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের SIP মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতেই হবে।
তৃতীয়ত, যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড গড়ে ১২% সুদ প্রদান করতে পারে বা সম্ভাবনা রয়েছে সেই সকল ফান্ডে SIP করা আবশ্যক।
আর এই দিকগুলি মেনে চললে একজন বিনিয়োগকারী ৩০ বছরে ১০,৮০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করবেন। নির্দিষ্ট সময় পর ফান্ড থেকে ১২% সুদের হারে ৯৫,০৯,৭৪১ টাকা সুদ পাবেন। অর্থাৎ ব্যক্তিটি ৩০ বছর পরে মোট ১,০৫,৮৯,৭৪১ টাকা ফেরত পাবে।
শেয়ার বাজারের মতো মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি লক্ষ্য করা যায়। এমন অবস্থায় স্থির রিটার্ন না পাওয়ার প্রবণতা থাকে বেশি। অবশ্য বর্তমানে স্থির রিটার্ন পেতে আর ফিক্সড ডিপোজিট ও রেকারিং ডিপোজিট নয়, বিনিয়োগ করুন Central Government Schemes এ। বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে যেমন কোনো প্রকার ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয় না। তেমন প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে ভারত সরকার স্কিম চালু করেছেন। এই যেমন ধরুন: কিষাণদের জন্যে, অবসর গ্রহণের পরের জীবনের জন্যে, মহিলাদের জন্যে, শিশু কন্যা সন্তানদের জন্য, কারিগরদের জন্যে, চাকুরিরত মানুষদের জন্য ইত্যাদি উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে Central Government schemes। আপনার জন্যে কোন স্কিমটি সঠিক এবং স্কিমগুলি কী কী সুবিধা দিচ্ছে [জানতে এক্ষুনি লিংকে ক্লিক করুন]।
(আপনাদের জেনে রাখা ভালো যে, এখানে শেয়ার বাজার এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত কেবল তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি সাপেক্ষ। তাই বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আমরা কোনো স্টকে, Mutual fund- এ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি না। আমাদের উদ্দেশ্য কেবল তথ্য এবং বাজার সংক্রান্ত খবর আপনাদের অব্দি পৌঁছে দেওয়ার।)




