Article By – আস্তিক ঘোষ

বহু কষ্টে উপার্জন করা অর্থ যেন নিমেষেই শেষ করে দিচ্ছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতি। কিন্তু ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে অতিরিক্ত খরচে রাশ টানতে হবে। এক্ষেত্রে আয়ের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় বাজেটের নিয়মগুলির মধ্যে একটি হল 50/30/20 নিয়ম। এই নিয়ম মেনে উপার্জন হিসেবে প্রাপ্ত টাকা কিভাবে খরচ করবেন, পাশাপাশি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কোথায় কীভাবে বরাদ্দ করবেন তার পদ্ধতি প্রদান করে।
50/30/20 নিয়ম অনুসারে, আপনার কর-পরবর্তী আয় তিনটি প্রধান বিভাগে বরাদ্দ করা উচিত। প্রথমত, 50 শতাংশ মৌলিক চাহিদার জন্য, দ্বিতীয় 30 শতাংশ চাহিদার জন্য এবং তৃতীয়ত 20 শতাংশ সঞ্চয়ের জন্য৷ অর্থাৎ এই নিয়ম বা পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিটি বিভাগের জন্য আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ ব্যয় করতে হবে। এর মাধ্যমে অন্য কোনও ক্ষেত্রে খরচ বৃদ্ধির প্রলোভন থেকে বাঁচতে পারবেন।
আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সরল এবং বাস্তব কাঠামো প্রদান করে এই 50/30/20 বাজেটিং নিয়ম। আপনার করা উপার্জনের টাকা প্রয়োজনীয় ব্যয়, বিবেচনামূলক ব্যয় এবং সঞ্চয়ের মধ্যে ভাগ করে একটি সুষম ব্যয়ের অভ্যাস গড়ে তোলে। ‘প্রয়োজন’-এর জন্য 50 শতাংশ অংশটি সাধারণত সবচেয়ে বড় অংকের খরচ। এর মধ্যে রয়েছে ভাড়া, বিদ্যুৎ, ইউটিলিটি বিল, ঋণের কিস্তি, ন্যূনতম ক্রেডিট কার্ড পেমেন্ট এবং বিমার প্রিমিয়াম। এগুলি আপনার বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিলগুলি মেটাতে দেরি করা উচিত নয়।
চাহিদার জন্য 30 শতাংশ হল আপনার বিনোদন তহবিল। কেনাকাটা, শখ এবং অবসর ক্রিয়াকলাপগুলির মতো অ-প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য এই অংশটি ব্যবহার করতে পারেন। প্রয়োজন এবং চাহিদার মধ্যে অনেকে পার্থক্য রয়েছে। সেটা মাথায় রাখতে হবে। ‘সেভিংস’-এর জন্য 20 শতাংশ রাখতে হবে। ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ করা অপরিহার্য। প্রতি মাসের মাইনে থেকে কুড়ি শতাংশ টাকা বাঁচিয়ে তা বিনিয়োগ কিংবা সঞ্চয় করুন। দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন।




