Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য বা Seafood রপ্তানি ইন্ডাস্ট্রি, বিশেষ করে চিংড়ি রপ্তানি গত এক বছরে অসামান্য সাফল্য প্রদর্শণ করেছে। মার্কিন শুল্ক চাপ, বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং উদীয়মান বেশকিছু বাজারের পরিবর্তনের মধ্যেও ভারত নতুন বাজারে রপ্তানি প্রবেশ করানোর সাথে রেকর্ড এক্সপোর্ট আরনিং (রপ্তানি আয়) অর্জন করেছে। কেন্দ্র সরকার আগামী পাঁচ বছরের সি-ফুড রপ্তানি ৩০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তারপরেও ভারতের সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চিংড়িতে কিছু চালান নিষিদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়ার কারণে ওই রপ্তানি ব্যাচ সহ চিংড়ির প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। এই প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা বাড়তে থাকলে ভারতের সি-ফুড ইন্ডাসস্ট্রি আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর বিষয়টি এমন এক সময় ঘটেছে যখন ভারত বৈশ্বিক রপ্তানি শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। সাথে বিভিন্ন খাতে উৎপাদন সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI), নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানো পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য শুধু নতুন বাজার খুঁজে পাওয়াই যথেষ্ট নয়; আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্যের গুণমান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য নিরাপত্তা এবং মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা হলে বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা ব্র্যান্ড ইমেজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য মান নিয়ন্ত্রণ, ট্রেসেবিলিটি এবং কমপ্লায়েন্সকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে উঠেছে। সাথে আরও বলেন, আগামী কয়েক মাসে শিল্প ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে ভারত তার রপ্তানি সাফল্যের গল্পকে আরও বড় উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে কি না।




