Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থনীতির ও রুপির ওপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে কেন্দ্র সরকার ও RBI একযোগে নিলো বড় পদক্ষেপ। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপগুলির ফলে আগামী এক বছরে ভারতে ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিদেশী মূলধন প্রবাহিত হতে পারে। যা দেশের সম্ভাব্য ব্যালেন্স অব পেমেন্টস (BOP) ঘাটতির বড় অংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে। সরকার বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের বা FPI-দের জন্য সরকারি বন্ডে সুদের আয় (Interest Income) এবং মূলধনী মুনাফার উপর কর ছাড় ঘোষণা করেছে। এর ফলে দেশের সরকারি বন্ড বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
পাশাপাশি RBI বিদেশী বিনিয়োগের বিভিন্ন নিয়মও শিথিল করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদী সরকারি বন্ডে বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ বাড়িয়েছে। আবার RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, এই পদক্ষেপগুলির উদ্দেশ্য শুধু রুপিকে সমর্থন করা নয়, বরং ভারতের বৈদেশিক মূলধন প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করা। এছাড়া বিদেশি মুদ্রায় আমানত (FCNR-B) এবং পাবলিক সেক্টর সংস্থাগুলির বিদেশি ঋণ সংগ্রহকে উৎসাহিত করতেও বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের পেছনে বড় কারণ হল পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি। উচ্চ তেলের দাম ভারতের আমদানি বিল বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে রুপির উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০-৯৫ ডলারের আশেপাশে থাকে, তাহলে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কর ছাড়, বন্ড বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার, FCNR আমানত উৎসাহ এবং বিদেশি ঋণ সংগ্রহে; অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত মূলধন ভারতে আসতে পারে। এর ফলে রুপির স্থিতিশীলতা বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং RBI-কে সুদের হার নির্ধারণে আরও স্বাধীনতা দেবে। আবার বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি পুঁজি আকর্ষণের জন্য ভারতের অন্যতম বড় ও সমন্বিত নীতি পদক্ষেপ। যা আগামী কয়েক মাসে ভারতীয় বন্ড বাজার, রুপি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।




