Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্লেষকদের দ্বারা প্রকাশিত একাধিক উঠে আসা রিপোর্ট অনুসারে, আগামী আর্থিক বছর (২০২৬-২৭ অর্থবছরে) ভারতের ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট বৃদ্ধির হার আমানত বৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে। এছাড়া এই প্রবণতা ব্যাংকগুলির জন্য একদিকে যেমন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনই নতুন ঝুঁকিও তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমাণ, আগামী অর্থবছরে ব্যাংক ঋণের বৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ১২% থেকে ১৪%। অন্যদিকে আমানতের বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ১০% থেকে ১২%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলি যতদ্রুত ঋণ দিচ্ছে, তত দ্রুত নতুন আমানত সংগ্রহ করতে পারছে না।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকগুলির তারল্য বা লিক্যুইডিটির ওপর। কারণ ব্যাংকগুলির প্রধান অর্থের উৎস হলো আমানত। যদি সেই উৎস যথেষ্ট দ্রুত না বাড়ে, সেক্ষেত্রে ঋণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে ব্যাংকগুলিকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। আর এই প্রবণতা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি, গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, ভারতের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে এবং সেই সঙ্গে ঋণের চাহিদাও বেড়েছে। বিশেষ করে রিটেইল লোন, MSME বা ছোট ও মাঝারি ব্যবসা এবং বড় কর্পোরেট সেক্টরে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভারতের GDP বৃদ্ধির হার ৬.৫% থেকে ৭%-এর মধ্যে থাকে। সেক্ষেত্রে এই ঋণ চাহিদা বা লোন ডিমান্ড আরও বাড়বে। কিন্তু সেই অনুপাতে আমানত না বাড়লে ব্যাংকগুলির ওপর চাপ বাড়তেই থাকবে। আর এই পরস্থিতি মোকাবিলায় অনেক ব্যাংক ইতিমধ্যেই ডিপোজিট রেট বাড়ানোর কথা ভাবছে। অর্থাৎ, গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে সেভিংস ও ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার বাড়ানো হতে পারে। এর ফলে আমানত কিছুটা বাড়তে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে ব্যাংকের খরচও চাহিদা বাড়া মানে অর্থনীতিতে কার্যকলাপ বাড়ছে।




