Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত নগদ জমে যাওয়ায় এবার স্বল্পমেয়াদি সরকারি ঋণ বাড়ানোর দাবি তুলেছেন দেশের ঋণবাজারের বিনিয়োগকারীরা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক ট্রেজারি আধিকারিকের মতে, ব্যাংকগুলির হাতে বর্তমানে প্রচুর রুপি রয়েছে এবং সেই অর্থ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় ও নিরাপদ জায়গার প্রয়োজন। তাই সরকার যদি আরও বেশি ট্রেজারি বিল বা স্বল্পমেয়াদি সরকারি ঋণপত্র বাজারে আনে, তাহলে সেই অতিরিক্ত নগদ শোষণ করা সহজ হতে পারে। এর পেছনে মূল কারণ হল সম্প্রতি ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় তারল্য বা লিক্যুইডিটিতে বড়সড় বৃদ্ধি।
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)- এর বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত পদক্ষেপ এবং বিশেষ ডলার ডিপোজিট ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল অর্থ দেশে ঢোকার পর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রুপির জোগান তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সারপ্লাস লিক্যুইডিটি প্রায় ৯.৭ ট্রিলিয়ন রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৯.৭ লক্ষ কোটি রুপিতে পৌঁছেছিল। আর এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলির জন্য সমস্যা হল, হাতে টাকা থাকলেও সেই টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা হবে।
সরকারি বন্ড এবং অন্যান্য নিরাপদ ঋণপত্র সাধারণত ব্যাংক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের মাধ্যম। ফলে স্বল্পমেয়াদি সরকারি বন্ডের সরবরাহ বাড়ানো হলে ব্যাংকগুলি তাদের অতিরিক্ত নগদ সেই বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবে। এতে আরেকটি সুবিধা হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের ওপর চাপ কমানো। বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণপত্রের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য নিয়ে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। রাজ্য সরকারগুলির বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়াও বন্ড মার্কেটে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইয়ল্ডের ওপর চাপ ফেলছে।
সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হল, ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত টাকা জমে থাকায় সরকার সেই টাকা সরকারি স্বল্পমেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে তুলে নিতে চাইতে পারে। এর ফলে অর্থবাজারে অতিরিক্ত নগদের চাপ কিছুটা কমবে এবং সুদের হার ও সরকারি বন্ডের বাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে। তবে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ ভাবে পড়বে। অর্থাৎ, ব্যাংক ঋণের সুদ, FD-এর সুদ এবং বিনিয়োগের রিটার্নের ওপর ভবিষ্যতে সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। অবশ্য এখনই আপনার পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা যাবে বা সরাসরি কোনও কর বা শুল্ক বাড়বে, এমন নয়।




