Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থনীতিতে বড় অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা ঢুকলেও এবার সেই বিপুল প্রবাহই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে রিজার্ভ ব্যাংক বা RBI- এর সামনে। প্রবাসী ভারতীয়দের কাছ থেকে বিশেষ আমানত প্রকল্পের মাধ্যমে রেকর্ড ১২৭.২৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে ভারতীয় ব্যাংকগুলি। এর সঙ্গে বিদেশি মুদ্রায় ঋণ ও বাহ্যিক বাণিজ্যিক ঋণ (External Commercial Borrowings) মিলিয়ে মোট প্রবাহ (inflow দাঁড়িয়েছে) প্রায় ১৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার। যা RBI-এর প্রাথমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার অনুমানের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
এই বিপুল অর্থ আনার জন্য RBI ব্যাংকগুলিকে বিশেষ FCNR(B) সোয়াপ ফ্যাসিলিটি দিয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল, বিদেশ থেকে ডলার আনার সময় টাকার দাম বা রুপির বিনিময়মূল্য কমে গেলে ব্যাংকগুলিকে বড় ধরনের মুদ্রার ঝুঁকি (currency risk) থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। কিন্তু এই সুরক্ষার জন্য RBI-কে এখন হেজিং বা সোয়াপের খরচ বহন করতে হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এই কারেন্সি রিস্ক প্রোটেকশন এবং অতিরিক্ত লিক্যুইডিটি সামলানোর খরচ মিলিয়ে RBI-এর সম্ভাব্য বিল প্রায় ১০.৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ পাঁচ বছরে প্রায় ১.২ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আরও একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নগদ প্রবাহ নিয়ে। ডলার RBI-এর কাছে দিয়ে ব্যাংকগুলি বিপুল পরিমাণ রুপি পেয়েছে। যার ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সারপ্লাস লিক্যুইডিটি প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকাতে পৌঁছেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ওভারনাইট ইন্টারেস্ট রেট RBI-এর বেঞ্চমার্ক রেটের নিচে নেমে যাওয়ার চাপ তৈরি হয়েছে। RBI যদি বিদেশে, যেমন মার্কিন ট্রেজারিতে, এই ডলার বিনিয়োগ করে ভালো রিটার্ন পায়, তাহলে সুদ থেকে আয় করে সম্ভাব্য খরচের একটা অংশ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে এর প্রভাব সরকারের উপরও পড়তে পারে। RBI প্রতি বছর সরকারের কাছে যে লভ্যাংশ (dividend) বা সারপ্লাস ট্রান্সফার করে, আর এই অতিরিক্ত খরচ তার পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। গত মে মাসে RBI কেন্দ্র সরকারকে রেকর্ড ২.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছিল। অর্থাৎ, প্রবাসীদের বিপুল ডলার ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ও রুপিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। কিন্তু একই সঙ্গে সেই অর্থের তারল্যতা (liquidity) এবং কারেন্সি রিস্ক সামলানো RBI-এর জন্য বড় আর্থিক ও নীতিগত পরীক্ষা।




