Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের চাল রপ্তানি বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কম বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন মরশুমের ধান উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় চলতি সপ্তাহে ভারতীয় চাল রপ্তানির দাম এক বছরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ৫% ভাঙা পারবয়েলড চালের দাম বেড়ে প্রতি টন ৩৬৯ থেকে ৩৭৫ ডলার হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৬৬ থেকে ৩৭১ ডলার। সাথে ৫% ভাঙা সাদা চালের দামও বেড়ে হয়েছে প্রতি টন ৩৬৪ থেকে ৩৬৯ ডলার।
মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে বর্ষার ঘাটতিতে। আগস্টে ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৬% কম বৃষ্টি হয়েছে এবং আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিও স্বাভাবিকের নিচে থাকতে পারে। ফলে ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ধান উৎপাদনকারী এলাকাগুলিতে। এর পাশাপাশি বিদেশ থেকেও চালের চাহিদা রয়েছে।
মালয়েশিয়া ও ফিলিপিন্স থেকে নিয়মিত চাহিদা আসছে এবং ইরাকের দিক থেকেও নতুন চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে একদিকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা; দুইয়ের প্রভাবেই ভারতীয় চালের রফতানি দর বাড়ছে। শুধু ভারত নয়, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের চালের দামও বেড়েছে। থাইল্যান্ডের ৫% ভাঙা চালের দাম এক সপ্তাহে ৪৬৫ ডলার থেকে বেড়ে ৪৮৩–৪৮৫ ডলার প্রতি টন হয়েছে। আর ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও দাম সামান্য বেড়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হল, চালের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কম বৃষ্টির কারণে ধানের উৎপাদন কম হলে দেশে চালের জোগান কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশে ভারতীয় চালের চাহিদা ও রফতানি দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চাল রফতানি করতে আগ্রহী হতে পারেন। এর ফলে ভবিষ্যতে পাইকারি ও খুচরো বাজারে চালের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এখনই বড় মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিত নয়, তবে ধানের ফলন, বর্ষার পরিস্থিতি এবং সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।




