চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক আয়ের ফল প্রকাশের পর শীর্ষ স্থানীয় বেসরকারি ঋণ দাতাদের মতে চাষ – আবাদ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে কৃষক ও গ্রামীণ মাইক্রোফিনান্স ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করতে দেখছে। অনেক সংখ্যক ব্যাংকের দাবি, ঋণ পরিশোধে বিলম্বর হওয়ার কারণ অপ্রত্যাশিত আবহাওয়ার প্রভাব এবং ক্রমবর্ধমান কৃষি খরচ। ৫টি বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক জানিয়েছে, জুন ত্রৈমাসিকে গ্রামীণ এলাকার লোনের বকেয়া পরিশোধের বিলম্ব হলেও এই ধরণে লোন গ্রহীতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার বেশিরভাগই কৃষি এবং মাইক্রোফিনান্স লোনের ক্রমবর্ধমান বকেয়া দ্বারা চালিত।
প্রকৃতি এবং সাধারণ নির্বাচনের কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে মাইক্রো লোন বিতরণ ধীর হয়। এই বিষয়ে আলোচনার সময় Induslnd Bank– এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত কাঠপালিরা গত সপ্তাহে বলেছিলেন, গ্রামীণ অঞ্চলগুলি এখন অতিমারি প্রভাব থেকে পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আরও বলেছেন যে, ভারতের ১.৪ বিলিয়ন জনসংখ্যার ৪০%- এরও বেশি মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। যা চলতি বছরে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, নীতিগত হস্তক্ষেপ এবং বিচ্ছিন্ন বর্ষার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যে কারণে কৃষকরা লোন নিলেও তা পরিশোধ করতে পারছেন না।
ভারত সরকার কৃষকদের লোন বা ঋণ ভর্তুকি দেয় এবং ব্যাংকগুলিকে কৃষি ঋণ দিতে বাধ্য করে। যার ফলে গত চার বছরে ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে ২১ ট্রিলিয়ন রুপি বা ২৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এও জানা যাচ্ছে যে গত একবছরে নন – পারফর্মিং ফাম লোনের নিয়ম শিথিল হয়েছে। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শেষ তথ্য বলছে যে, দেশের কৃষি ও মাইক্রোফিনান্স লোন ৬.৫% উন্নীত হয়েছে আগের তুলনায়।
বেসরকারি বড় ঋণদাতা HDFC ব্যাংক বলেছে, পরিশোধ না হওয়া ফার্ম লোনের সংখ্যা শেষ তিন মাসে দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংক বলছে যে মাইক্রোফিনান্সের লোনের বকেয়া সময়ের সাথে বাড়ছে। মাসের শুরুতে কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংকের চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার বলেছেন, উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের কিছু রাজ্যে লোনের বকেয়া পরিশোধ না করার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু ব্যাংক ঋণের টাকা ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন পদক্ষেপ নিতে ভয় পাচ্ছেন কৃষকদের বাড়তে থাকা আত্মহত্যার ঘটনা দেখে।
Article By – সুনন্দা সেন






