আমরা যখনই কোনো ঋণ নিই বা ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার কথা ভাবি আমাদের প্রথমেই ভাবতে হয় সুদের হারের কথা অর্থাৎ কত শতাংশ সুদ বা ইন্টারেস্ট আমাদের দিতে হবে। ইন্টারেস্ট রেটের পাশপাশি আরও একটি পার্সেন্টেজ রেট আছে যা আমাদের ঋণ নেওয়ার আগে দেখা প্রয়োজন। সেটি হল APR বা Annual Percentage Rate। যদিও ইন্টারেস্ট রেট এবং অ্যানুয়াল পার্সেন্টেজ রেট কথা দুটি একে অপরের পরিবর্তে মাঝেমধ্যেই ব্যবহার করা হয়, তা সত্ত্বেও এই দুটি টার্মের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে। দুটির পার্থক্য জানলে আপনি নিজের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ইন্টারেস্ট রেট কী?
সুদের হার বা ইন্টারেস্ট রেট হল লোন অ্যামাউন্টের একটি শতকরা পরিমাণ যা একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে ঋণদাতাকে প্রদান করে থাকেন ঋণগ্রহীতা। এই খরচটি ঋণ নেওয়ার জন্য ঋণগ্রহীতাকে বহন করতে হয়, যা বার্ষিক হারে প্রকাশ করা হয়। ইন্টারেস্ট রেট স্থায়ী হতে পারে অর্থাৎ সম্পূর্ণ মেয়াদ জুড়ে অপরিবর্তিত থাকতে পারে, আবার পরিবর্তনশীল বা variable হতে পারে অর্থাৎ বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী কমতে বা বাড়তে পারে। ধরুন আপনি 8% সুদের হারে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিলেন ১০ বছরের জন্য তাহলে আপনাকে এই ১০ বছরে প্রিন্সিপাল বাদেও মোট সুদ দিতে হবে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩১ টাকা।
APR কী?
আপনার ঋণ বাবদ মোট কত খরচ হবে তার আরও বিস্তারিত ধারণা দেয় annual percentage rate। APR-এর মধ্যে ইন্টারেস্ট রেট ছাড়াও আরও অতিরিক্ত বেশ কিছু চার্জ যেমন origination fee, closing cost ইত্যাদিও যোগ করা থাকে।
সাধারণত ঋণদাতারা APR ক্যালকুলেশনের সাহায্যে ঋণগ্রহীতার মত ঋণের খরচ বা ক্রেডিট কার্ডের খরচের বিষয়ে বুঝতে সাহায্য করেন। এটিও ইন্টারেস্ট রেট-এর মতো বার্ষিকভাবে বা annually প্রকাশ করা হয়, তবে সুদের হারের থেকেও বেশি নিখুঁতভাবে এটি ঋণ-সংক্রান্ত খরচ সম্পর্কে জানায়। যেমন, ধরা যাক যদি আপনি ১ লাখের কোনো ঋণ নেন যার সুদের হার 10% এবং প্রসেসিং ফি বাবদ যদি আপনি আরও ২০০০ টাকা দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার ওই ঋণের APR হবে 12%। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে সুদের হার কম হলেও APR বেশি। সুতরাং এই অতিরিক্ত ফি-এর জন্য আপনার ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বেড়ে যাবে।
কীভাবে গণনা করা হয় সুদের হার ও APR?
ভারতে একাধিক বিষয় কাজ করে সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে, তার মধ্যে RBI-এর repo rate অন্যতম। Repo rate হল একটি সুদের হার যে হারে RBI অন্যান্য ব্যাংককে ঋণ দিয়ে থাকে। সাধারণত, ঋণদাতার অপারেটিং খরচ, ঋণ-সংক্রান্ত সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি, প্রফিট মার্জিন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে RBI-এর পলিসি রেটের তুলনায় লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার বেশি হয়। এছাড়াও prime rate অন্য আরও একটি বিষয় যা সুদের হার নির্ধারণে সাহায্য করে। এটি সেই সুদের হার যে হারে ব্যাংকগুলি নিজেদের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য গ্রাহকদের ঋণ প্রদান করে থাকে এবং এটি অন্যান্য সুদের হারের ক্ষেত্রে বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত যেসব গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর বেশি তাঁদের কম হারে সুদ দিতে হয় কারণ তাঁরা ব্যাংকের কাছে কম ঝুঁকিপূর্ণ।
এছাড়াও লোনের ধরন, মেয়াদ, ঋণগ্রহীতার নির্ভরযোগ্যতা, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ইত্যাদি ঋণের সুদের হার নির্ধারণে সাহায্য করে।
APR ক্যালকুলেশনের সময় সুদের হার, প্রসেসিং সংক্রান্ত কোনো খরচ, লোনের মেয়াদ ইত্যাদি সব বিষয় বিবেচনা করা হয়। প্রতিমাসের সুদের হার যোগ করে মোট লোন অ্যামাউন্ট দিয়ে ভাগ করে গড় বার্ষিক সুদের হার পাওয়া যায়। অন্যদিকে, APR-এর ক্ষেত্রে এই হারের সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ বা ফি যুক্ত করা হয়।
Interest rate ও APR-এর পার্থক্য কী?
এই দুটি বিষয়ের মূল পার্থক্য রয়েছে এদের খরচের মধ্যে। সুদের হার হল মোট ঋণের পরিমাণের একটি শতকরা হিসাব যা সুদ হিসেবে ঋণদাতাকে প্রদান করা হয়। এটি সরাসরি মাসিক লোন পেমেন্টে প্রভাব ফেলে।
আবার, APR মানে হল সুদের হার বাদেও লোনের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অতিরিক্ত চার্জ বা খরচ।
আপনি যখনই একাধিক লোনের মধ্যে তুলনা করবেন তখন অবশ্যই ইন্টারেস্ট রেট অধিক গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে, APR দেখে আপনি একাধিক ঋণদাতার বিভিন্ন অফারের মধ্যে তুলনা করতে পারবেন।
সুতরাং, লোন নেওয়ার সময়ে interest rate যেমন দেখা জরুরি, যার ফলে আপনি জানতে পারবেনআপনার monthly loan payment কত হবে এবং কত অ্যামাউন্ট আপনি সম্পূর্ণ মেয়াদে পরিশোধ করবেন, ঠিক একইভাবে APR-কেও এড়িয়ে গেলে চলবে না। কারণ এটি খরচ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা দেয়। অনেক ঋণের সুদের হার কম হলেও অতিরিক্ত কোনো চার্জ ধার্য হওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে APR বেশি হবে। সুতরাং যখনই ঋণ নেওয়া হবে বা ক্রেডিট কার্ড নিতে চাইবেন অবশ্যই ইন্টারেস্ট রেটের পাশাপাশি APR অর্থাৎ Annual Percentage Rate-ও দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।





