আমরা প্রত্যেকেই সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য শেয়ার বাজার, ব্যাংক, পোস্ট অফিসের মতো জায়গায় অর্থ জমা করি। তবে এই বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ের পথে অনেক সময়েই বাধা হয়ে দাঁড়ায় আমাদের অতিরিক্ত ব্যয়। অতিরিক্ত ব্যয় এমন একটি চক্র যেটি সহজে ভাঙা যায় না। কিন্তু সচেতনতা এবং কয়েকটি উপায় মেনে চললে নিজের আর্থিক দিক নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আজকে আমরা সেইরকমই কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করব যেগুলি মেনে চললে অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে আর্থিক দিক সচ্ছল করা যাবে সহজেই।
→ আপনি কেন অতিরিক্ত ব্যয় করেন ভাবুন: প্রথমেই আপনাকে সচেতনভাবে ভাবতে হবে আপনি কেন বা কী কারণে অতিরিক্ত ব্যয় করেন। একঘেয়েমি, বিষন্নতা, উদাসীনতা ইত্যাদি মানসিক কোনো কারণ থাকবে পারে বা বাহ্যিক কোনো কারণ অথবা অনলাইন কেনাকাটার সুবিধা ইত্যাদি একাধিক কারণ থাকতে পারে। একবার আপনি কারণটি অনুধাবন করলে সহজেই বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে সেগুলি নিয়ন্ত্রণ করা বা এড়ানো যেতে পারে। যেমন, যদি আপনি অনলাইন শপিং-এ আসক্ত হন তাহলে শপিং-এর একটি লিমিট বা সীমা নির্ধারণ করে রাখতে পারেন। চেষ্টা করবেন সবসময় সেই লিমিটের নীচেই কেনাকাটা করতে।
→ বাজেট প্রস্তুত: আপনার আয় এবং ব্যয়ের স্বচ্ছ চিত্র দেখায় আপনার বাজেট। এছাড়াও খরচে একটি সীমা বেঁধে দিতেও সাহায্য করে। সেইজন্য আয় ব্যয়ের যথাযথ হিসেব রেখে বাজেট তৈরি করুন এবং কতটা আপনি need বা প্রয়োজনে খরচ করবেন কতটা want বা চাহিদায় খরচ করবেন এবং কতটা সঞ্চয় করবেন সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করুন। আপনি বাজেট অনুযায়ী ব্যয় করলে অযাচিত খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
→ ২৪ ঘণ্টার নিয়ম: কোনো জিনিস দেখে কিছু বিবেচনা না করেই কিনে ফেলার অভ্যাস যদি থাকে, সেক্ষেত্রে এই নিয়মটি পালন করতে পারেন। কোনো জিনিস কিনতে যদি খুব ইচ্ছে করে তখন সেটি সেই মুহূর্তে না কিনে নিজেকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিন। এই সময়ের মধ্যে আপনি পার্থক্য করতে পারবেন জিনিসটি আপনার কতটা প্রয়োজনের। ২৪ ঘণ্টা পরেও যদি কেনার প্রাসঙ্গিকতা থাকে তাহলে বুঝতে হবে সেটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই নিয়ম মেনে চললে পরবর্তীতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো যায়।
→ ক্রেডিট কার্ডের বদলে ডেবিট বা নগদ ব্যবহার করুন: ক্রেডিট কার্ডে যেহেতু সঙ্গে সঙ্গে টাকা পেমেন্ট করতে হয় না তাই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অতিরিক্ত খরচ করার প্রবণতা বেশি থাকে এমনকি ঋণে জর্জরিত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যায়। সেই কারণে চেষ্টা করুন ক্রেডিট কার্ডের অতিরিক্ত ব্যবহারে এড়িয়ে চলতে। বদলে ডেবিট বা নগদ ব্যবহার করুন। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেও কার্ড লিমিটের 20%–30% ব্যবহার করবেন।
→ আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: কোন খাতে কত অর্থ সঞ্চয় করবেন এবং কোথায় কী ব্যয় করবেন সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। কতটা এমারজেন্সি ফান্ড তৈরি করবেন, ঋণ বাবদ কত অর্থ খরচ হবে, অবসরের জন্য কত সঞ্চয় করতে চান ইত্যাদি লক্ষ্যগুলি স্থির করা প্রয়োজন।
→ নিয়মিত খরচের হিসেব রাখুন: Poor money management-এর একটি উদাহরণ হল প্রচুর অযাচিত ঋণ। ২০২২ সালে সারা দেশে ৫০০ জন মানুষের উপর চালানো একটি সমীক্ষা বলছে, এই ৫০০ জনের মধ্যে 45% অর্থাৎ ২২৫ জন বিভিন্ন UPI অ্যাপের মাধ্যমে হয়ে চলা খরচগুলো কোনোভঅবে track রাখতে পারেন না এবং এইজন্য তাঁদের ব্যাংক স্টেটমেন্টের উপর ভরসা করতে হয় অর্থাৎ তাঁরা জানেন না কোথায় কী খরচ হয়। এটি সঞ্চয়ে বাধা তৈরি করে। প্রতি সপ্তাহে এবং মাসে নিজের খরচ পুনরায় দেখুন। যাতে আপনি বুঝতে পারেন কোন খাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, কোন খাতে খরচ কমানো যেতে পারে ইত্যাদি।





