Article By – সুনন্দা সেন

রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI- এর বিশেষ ডলার-রুপি সোয়াপ ব্যবস্থায় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশি মুদ্রা এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ১২৭.২৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে FCNR(B) (Foreign Currency Non-Resident Bank) আমানত থেকে। আর বাকি অর্থ এসেছে বৈদেশিক মুদ্রা ঋণ (Overseas Foreign Currency Borrowings) এবং বাহ্যিক বাণিজ্যিক ঋণ (External Commercial Borrowings)-এর মাধ্যমে। এই বিপুল ডলার প্রবাহ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি।
RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা আগে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার আসার অনুমান করেছিলেন। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে এখন রুপির উপর চাপ সামলাতে এবং প্রয়োজনে ডলার বিক্রি করে বাজারে হস্তক্ষেপ করার জন্য অনেক বেশি পাওয়ার রয়েছে। যার প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ (৩ সেপ্টেম্বর,২০২৬) রুপি প্রতি ডলারে ৯৪.৩০-এর কাছাকাছি লেনদেন শুরু করেছে, যা প্রায় দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী স্তর। এমনকি এর মধ্যে এক পর্যায়ে রুপি ০.৭% পর্যন্ত শক্তিশালী হয়ে বা ডলারের বিপরীতে বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪.২৭১৩-এ পৌঁছায়।
তবে এই ডলার প্রবাহের একটি দীর্ঘমেয়াদি দিকও রয়েছে। RBI-কে ভবিষ্যতে এই বিদেশি মুদ্রা-সংক্রান্ত দায় মেটাতে হবে। তাই এখনকার বিপুল প্রবাহ (inflow) রুপিকে তাৎক্ষণিকভাবে সুরক্ষা দিলেও ভবিষ্যতে এর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আবার রুপি শক্তিশালী হলে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল, ইলেকট্রনিক্স, বিদেশি পণ্য ও কাঁচামালের খরচের চাপ কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে তেলের দাম ও ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে থাকলে ভবিষ্যতে জ্বালানি ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের দামে স্বস্তি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক তেলের দাম ও অন্যান্য বৈশ্বিক কারণও ভারতের বাজারদামে বড় ভূমিকা রাখবে।




