Article By – সুনন্দা সেন

ইরাকের তেল রপ্তানি আগস্টে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং সেপ্টেম্বরেও তা আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের প্রায় ১৩.৫ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন থেকে আগস্টে ইরাকের রপ্তানি বেড়ে প্রায় ২৩.৪ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো ইরাকি তেলের বড়সড় মূল্যছাড় এবং কিছু ইরাকি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার জন্য ইরানের অনুমতি। ভারতের জন্য এই খবর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ ইরাক থেকে মূলত ভারী ও উচ্চ-সালফারযুক্ত বাসরাহ ক্রুড আসে, যা ভারতীয় রিফাইনারিগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফিডস্টক। ইতিমধ্যেই রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ আগস্টে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল বাসরাহ ক্রুড পেয়েছে। ভারত পেট্রোলিয়ামও চলতি অর্থবর্ষে প্রথম ইরাকি তেল চালান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আরও বড় বিষয় হলো, ইরাকের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা SOMO আগস্টে বাসরাহ ক্রুডে প্রতি ব্যারেলে ২৫ ডলার থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছিল। ফলে পরিবহন ও বিমার খরচ বেশি থাকা সত্ত্বেও এই তেল কেনা ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
ইরাক থেকে সস্তায় এবং তুলনামূলক বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত তেল ভারতে পৌঁছতে পারলে ভারতীয় রিফাইনারিগুলির কাঁচামালের চাপ কিছুটা কমতে পারে। এর ফলে পেট্রোল-ডিজেলের দামে সরাসরি বড় পতন নিশ্চিত না হলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহের চাপ কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, তাই আগামী দিনে তেলের দাম ও ভারতের আমদানি খরচ অনেকটাই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।




