Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ঋণ-জমা অনুপাত বা লোন -টু- ডিপোজিট রেশিও বর্তমানে সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অনুপাত প্রায় ৮%-এর কাছাকাছি। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ব্যাংকগুলি তাদের সংগৃহীত আমানতের বড় অংশই ইতিমধ্যে ঋণ হিসেবে বিতরণ করে ফেলেছে। অর্থনীতিতে ঋণের জোরালো চাহিদা একদিকে ইতিবাচক হলেও অন্যদিকে এই পরিস্থিতি ব্যাংকগুলির তারল্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক বছরে কর্পোরেট ঋণ এবং রিটেইল ঋণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গৃহঋণ, গাড়িঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ এবং পরিকাঠামো ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রকল্পে বিনিয়োগের কারণে ব্যাংকগুলির ঋণ বিতরণ দ্রুত হয়েছে।
তবে একই সময়ে আমানত বৃদ্ধির গতি তুলনামূলকভাবে ধীর থাকায় লোন-ডিপোজিট অনুপাত ক্রমাগত উর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলির হাতে অতিরিক্ত ক্যাশ ফান্ড বা বাফার কমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোন-ডিপোজিট অনুপাত সাধারণত ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল বডির একটি গুরুত্বপূর্ন ইনডেক্স। অনুপাত যত বেশি হয়, ব্যাংকের সুদ থেকে প্রাপ্ত আয়ের সম্ভাবনা তত বাড়ে। কিন্তু এই অনুপাত অত্যাধিক বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলির ঝুঁকিও বাড়ে। হঠাৎ করে আমানত প্রত্যাহার, বাজারে অস্থিরতা বা আর্থিক চাপের পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলির পক্ষে গ্রাহকদের নগদ চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আমানত প্রত্যাহার বা বাজারে অস্থিরতার সময়ে ব্যাংকগুলির পক্ষে নগদ চাহিদা মেটানো কঠিন হতে পারে। এ কারণেই বিশ্লেষকরা এটি কে দীর্ঘমেয়াদে একটি ঝুঁকির সংকেত হিসেবে দেখছেন। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ইতিমধ্যেই তারল্য পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে বলে বাজার সূত্রের দাবি। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলিকে আমানত বাড়াতে উৎসাহিত করা বা ঋণ বৃদ্ধির গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কিছু ব্যাংক ইতিমধ্যেই উচ্চ সুদের হার দিয়ে স্থায়ী আমানত আকর্ষনের চেষ্টা শুরু করেছে। অর্থাৎ, লোন-ডিপোজিট অনুপাতের এই রেকর্ড উচ্চতা ভারতের অর্থনীতিতে ঋণের শক্তিশালী চাহিদার ছবি তুলে ধরলেও, একই সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্পষ্ট করে দিচ্ছে।




