Article By – সুনন্দা সেন

এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে দেশের ব্যাংক ঋণ বৃদ্ধি গতি কিছুটা কমেছে বলে জানা যাচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) -এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক ক্রেডিট গ্রোথ বা ঋণ বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫% হ্রাস পেয়েছে। যদিও এই হার এখনও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, তবে আগের মাসগুলির তুলনায় এটি কিছুটা শ্লথ হয়েছে, গত আর্থিক বছরে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঋণ বৃদ্ধির হার ১৬%-এরও বেশি ছিল। সেই তুলনায় এখনকার এই পতন বাজারে এক ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাথে এপ্রিলের শুরুতে ঋণ বৃদ্ধির এই ধীরগতি প্রবণতা দেশের সামনে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধীরগতির পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। আর সেগুলি হল –
- প্রথমত, ‘হাই বেস ইফেক্ট’ অর্থাৎ আগের সময়ে ঋণ বৃদ্ধির হার অনেক বেশি থাকায় তা তুলনামূলকভাবে কম মনে হচ্ছে।
- দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় লিক্যুইডিটি কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলি ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হচ্ছে।
এছাড়া, কিছু খাতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়াও একটি বড় কারণ। আগের মাসগুলোতে দ্রুত ঋণ নেওয়ার পর এখন অনেক সংস্থা ও গ্রাহক কিছুটা অপেক্ষার পথে হাঁটছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা; বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি—যা ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তুলছে। তবে এই পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নেতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে না। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ঋণ বৃদ্ধির এই ধীরগতি আসলে অর্থনীতির জন্য একটি “স্বাভাবিক” বা “সাসটেইনেবল” পর্যায়ের দিকে এগোনোর ইঙ্গিত। ভবিষ্যতে ঋণ বৃদ্ধির হার ১২% থেকে ১৪%- এর মধ্যে স্থিতিশীল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো—এর প্রভাব কী হতে পারে? সাধারণত, ব্যাংক ঋণ বৃদ্ধি কমলে তা অর্থনীতির গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, কারণ ঋণের মাধ্যমেই ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং ভোক্তা খরচ বাড়ে। তবে নিয়ন্ত্রিত গতি অর্থনীতিকে অতিরিক্ত ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে। অবশ্য বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির এবং সংবাদনির্ভর। বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং বড় কোনো ইতিবাচক সংকেত না আসা পর্যন্ত বাজারে এমন ওঠানামা চলতেই পারে।




