Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি শিল্প এখন এক কঠিন সময়ের মুখোমুখি। একদিকে জ্বালানি খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতারা দাম কমানোর জন্য চাপ বাড়াচ্ছেন। এই দুইয়ের চাপে রপ্তানিকারকদের লাভের মার্জিন উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। আর দুটো কারণ হলো,
- প্রথমত, বাণিজ্যিক LPG- এর দামে সাম্প্রতিক বৃদ্ধি শিল্পের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। টেক্সটাইল সেক্টরে dyeing, processing এবং finishing-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপে LPG ব্যবহৃত হয়। ফলে LPG-এর দাম বাড়তেই উৎপাদন খরচও সরাসরি বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের আগে থেকেই নির্ধারিত দামে বিদেশি অর্ডার থাকে, তাই এই অতিরিক্ত খরচ তারা ক্রেতাদের ওপর চাপাতে পারছেন না। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে এই চাপ আরও তীব্র।
- দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কিছুটা দুর্বল হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা এখন কম দামে পণ্য কিনতে চাইছেন। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং খরচ কমানোর প্রবণতার কারণে ক্রেতারা নতুন অর্ডার দেওয়ার আগে দামের ওপর কড়া দরকষাকষি করছেন। ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে যেখানে খরচ বাড়ছে, কিন্তু বিক্রির দাম কমছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের টেক্সটাইল শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে। বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করতে পারছে, ফলে তারা ক্রেতাদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এতে ভারতের রপ্তানি অর্ডার ধীরে ধীরে অন্য দেশে সরে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এর পাশাপাশি শ্রম খরচও কিছুটা বেড়েছে, যা সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ফলে শিল্পটি এখন একাধিক দিক থেকে চাপের মধ্যে রয়েছে; জ্বালানি, শ্রম এবং বাজার—তিন ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এছাড়া এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু রপ্তানিই নয়, দেশের কর্মসংস্থানেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ টেক্সটাইল শিল্প ভারতে অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থান প্রদানকারী খাত। তাই শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে নীতিগত সহায়তা এবং খরচ কমানোর কিছু উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।




