Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় তারল্য চাপ কমাতে বড় পদক্ষেপ নিল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা খুব শীঘ্রই ব্যাংকিং সিস্টেমে ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি তারল্য বা লিক্যুইডিটি ইনজেক্ট করবে। আর বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি ও বাজারের তারল্য অবস্থার পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। RBI জানিয়েছে, এই তারল্য জোগান আসবে একাধিক পথে। এর মধ্যে রয়েছে ওপেন মার্কেট অপারেশন (OMO), ভ্যারিয়েবল রেট রেপো (VRR) এবং ডলার-রুপি সুয়াপ। যার মূল লক্ষ্য— ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ নিশ্চিত করা, ঋণের সুদের হার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সরকারি বন্ডের ফলন খুব বেশি বেড়ে যাওয়া ঠেকানো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে,৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৯০ দিনের জন্য ২৫,০০০ কোটি টাকার VRR অপারেশন করা হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদে তুলনামূলক কম সুদে RBI থেকে টাকা ধার করতে পারবে। এর পাশাপাশি, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে RBI করবে একটি বড়সড় ১০ বিলিয়ন ডলারের USD/INR বাই-সেল সুয়াপ, যার মেয়াদ হবে ৩ বছর। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাপ কমবে এবং একই সঙ্গে রুপির তারল্য বাড়বে। সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে, RBI ঘোষণা করেছে ১ লক্ষ কোটি টাকার সরকারি বন্ড কেনা হবে ওপেন মার্কেট অপারেশনের মাধ্যমে। আর এই OMO হবে দুই ধাপে—
- প্রথম, ৫০,০০০ কোটি টাকা: ৫ ফেব্রুয়ারি
- শেষে, ৫০,০০০ কোটি টাকা: ১২ ফেব্রুয়ারি
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি রুপি দুর্বল হওয়া, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাহার এবং সরকারি বন্ডের ফলন বাড়ার কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছিল। RBI-এর এই পদক্ষেপ সেই চাপ কমাতে বড় ভূমিকা নেবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি অর্থবর্ষে RBI ইতিমধ্যেই রেকর্ড পরিমাণ বন্ড কিনেছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার বন্ড কেনা হয়েছে, ফলে মোট বন্ড কেনার অঙ্ক পৌঁছেছে প্রায় ৫.৭ লক্ষ কোটি টাকায়— যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই তারল্য জোগান ঋণ প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করবে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ধরে রাখতে সহায়ক হবে। তবে কেউ কেউ আবার বলছেন, RBI-র ভবিষ্যৎ নীতি ও সুদের হার নিয়ে আরও স্পষ্ট বার্তা বাজার চাইছে।




