Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা SBI দেশের ভবিষ্যৎমুখী শিল্পক্ষেত্র (Industrial Sector)-এ বিনিয়োগ বাড়াতে চালু করল এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ চক্র (CHAKRA)। এই উদ্যোগ মূলত একটি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স, যার লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে ভারতের বিভিন্ন উদীয়মান সেক্টরে প্রায় ১০০ লক্ষ কোটি টাকার উৎপাদন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা তৈরি করা। SBI জানিয়েছে, আগামী কয়েক বছরে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির বড় ভরকেন্দ্র হবে শক্তি রূপান্তর, গ্রীন ফাইন্যান্স ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প।
কিন্তু এই খাতগুলিতে প্রকল্পগুলি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অর্থায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যেই CHAKRA উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান খাতে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন ও গ্রিন অ্যামোনিয়া, ইলেকট্রিক যানবাহন ও চার্জিং অবকাঠামো, উন্নত ব্যাটারি ও সেল কেমিস্ট্রি, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো, স্মার্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ডিকার্বনাইজেশন বা কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রযুক্তি। SBI-র মতে, এই খাতগুলিই আগামী দিনে ভারতের শিল্পনীতির মূল স্তম্ভ হয়ে উঠবে।
ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মোট ১০০ লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২২ লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি ঋণ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে SBI স্পষ্ট করেছে, CHAKRA কেবলমাত্র প্রচলিত ব্যাঙ্ক ঋণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদি ‘পেশেন্ট ক্যাপিটাল’, কাঠামোবদ্ধ অর্থায়ন, সহ-অর্থায়ন এবং বিকল্প ফান্ডিং মডেল খোঁজা হবে, যাতে বড় ও জটিল প্রকল্পগুলিকে টেকসইভাবে অর্থ জোগানো যায়। এই কেন্দ্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জ্ঞানভিত্তিক সহায়তা। CHAKRA বিভিন্ন শিল্প নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন, হোয়াইট পেপার এবং নীতিগত বিশ্লেষণ প্রকাশ করবে।
পাশাপাশি নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, দেশি-বিদেশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট সংস্থা, স্টার্ট-আপ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। ইতিমধ্যেই SBI একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেছে, যাতে বড় প্রকল্পে যৌথ অর্থায়ন সম্ভব হয়। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, SBI-এর এই উদ্যোগ ভারতের গ্রীন এনার্জি ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পকে গতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে। একদিকে যেমন এটি শিল্প সংস্থাগুলির জন্য অর্থায়নের পথ সহজ করবে, অন্যদিকে দেশের জলবায়ু লক্ষ্য, নেট-জিরো প্রতিশ্রুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্ত ভিত দেবে।




