Article By – সুনন্দা সেন

মার্চ মাসে ভারতে ক্রড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের আমদানি প্রায় ১৭% কমেছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই হ্রাস দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মার্চে মোট আমদানি নেমে এসেছে প্রায় ১৮.৯ মিলিয়ন মেট্রিক টনে, যা আগে ছিল প্রায় ২২-২৩ মিলিয়ন টনের কাছাকাছি। শুধু পরিমাণই নয়, আমদানির মোট খরচেও কিছুটা হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে অন্যতম বড় কারণ হল পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিরতা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটে অনিশ্চয়তার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ভারতসহ অনেক দেশই আমদানি কৌশলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। এর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও মার্চ মাসে তুলনামূলকভাবে উঁচু ছিল। ফলে তেল সংস্থাগুলি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানি কমানোর পথে হেঁটেছে।
যেখানে ক্রুড অয়েলের আমদানি কমেছে, সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, প্রায় ২০%-এর বেশি। এর অর্থ, ভারত ধীরে ধীরে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। পরিবেশবান্ধব এবং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতির অংশ হতে পারে—যেখানে দেশটি ক্রুড অয়েলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে গ্যাস ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির দিকে এগোতে চাইছে।
তবে মনে রাখতে হবে, ভারত এখনও তার মোট চাহিদার ৮০%- এরও বেশি তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল। তাই বৈশ্বিক বাজারে যে কোনও অস্থিরতা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।




