বিভিন্ন ধরনের অ্যাসেটকে একাধিক উপায়ে আলাদা আলাদা ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়। সেই ক্যাটাগরির মধ্যে বাস্তব ও অবাস্তব সম্পদ অর্থাৎ tangible ও intangible asset খুব সাধারণ একটি ক্যাটাগরি। Tangible asset-এর বাস্তব একটি রূপ আছে এবং একে ধরাছোঁয়া যায়। অন্যদিকে, অবাস্তব সম্পদ অর্থাৎ intangible asset-এর বাস্তব কোনো রূপ নেই, একে ধরা বা ছোঁয়া যায় না। একটি কোম্পানির রেভিনিউ জেনারেট করতে এবং ক্যাশ ইনফ্লো ও আউটফ্লোয়ের ক্ষেত্রে এই দুধরনের অ্যাসেটই প্রয়োজনীয়। আমরা জানব tangible ও intangible asset কী, এদের মূল পার্থক্য, কীভাবে intangible asset-এর ভ্যালুয়েশন করা হয় ইত্যাদি বিষয়ে।
ট্যানজিব্ল অ্যাসেট কী?
ট্যানজিব্ল বা বাস্তব সম্পদের একটি বাস্তব রূপ আছে এবং মনিটরি একটি ভ্যালু আছে। এই ধরনের অ্যাসেট সহজে বাজারে কেনাবেচা করা যায়। যেহেতু এই সম্পদ ধরা যায় তাই এদের মূল্যও ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেটের তুলনায় সহজে নির্ধারণ করা যায়। এছাড়াও বাস্তব বা ট্যানজিব্ল অ্যাসেট দীর্ঘ ব্যবহারের কারণে depreciate হয়। এই ধরনের অ্যাসেটের হিসেব কোম্পানির ব্যালেন্স শিটে লংটার্ম অ্যাসেট হিসেবে ধরা হয়। এই সম্পদগুলি রাখতে হলে কোম্পানিকে নির্দিষ্ট কিছু খরচ যেমন স্টোরেজ, বিমা ইত্যাদি খরচ করতে হয়। এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক ট্যানজিব্ল অ্যাসেটের কয়েকটি উদাহরণ।
জমি, প্ল্যান্ট ও মেশিনারি, যন্ত্রপাতি, আসবাব, ইনভেন্টরি ইত্যাদি সবই ট্যানজিব্ল অ্যাসেটের উদাহরণ। একটি কোম্পানি কী ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তার উপর নির্ভর করছে কোম্পানিটির কী রকমের ট্যানজিব্ল অ্যাসেট থাকবে। যেমন, যদি কোনো কোম্পানি রিয়াল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে তাদের জমি বা ল্যান্ড অ্যাসেট বেশি থাকবে। আবার কোনো ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি plant ও machinery-তে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করবে। এইগুলি সবই বাস্তব বা ফিজিক্যাল অ্যাসেটের উদাহরণ। এছাড়াও ফিনান্সিয়াল ট্যানজিব্ল অ্যাসেটও থাকে। যেমন, স্টক বা ডিবেঞ্চার বিনিয়োগ ফিনান্সিয়াল ট্যানজিব্ল অ্যাসেটের উদাহরণ। আবার ক্যাশ বা নগদও একটি আর্থিক বাস্তব সম্পদ।
ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেট কী?
ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেটের কোনো ফিজিক্যাল ফর্ম নেই। সেই জন্য সেগুলোকে ধরা বা ছোঁয়া যায় না। কোনো ব্যবসা বা কোম্পানির সেই অ্যাসেট নিজের থাকতে পারে আবার কেউ অন্য কোথা থেকে acquire বা গ্রহণ করতে পারে। ট্যানজিব্ল অ্যাসেটের মতো ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেটও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লংটার্ম অ্যাসেট হিসেবে গণ্য হয়। আর ধীরে ধীরে ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেটের ভ্যালুও কমে আসে অর্থাৎ depreciate হয়। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এদের ভ্যালু বেড়েও যায়। এবার দেখে নেব intangible asset কোনগুলি।
কোম্পানির goodwill, patent, trademark, brand name ইত্যাদিকে intangible asset বলে। যদিও এদের কোনো বাস্তব আকার বা রূপ নেই, তা সত্ত্বেও ব্যবসায় ব্যাপক সাহায্য করে intangible asset। যেমন, উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, Nike বা Adidas জনপ্রিয় দুটি ফুটওয়্যার এবং অ্যাপারেল কোম্পানি। এই দুই কোম্পানির প্রোডাক্টের দাম এর ব্র্যান্ড ভ্যালুর কারণে বেশি। Brand value বা brand name এমনই একটি intangible asset যার মূল্য বাড়ে, যদি কোম্পানি ঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। একই রকমভাবে কোম্পানি ভালোভাবে পরিচালিত হলে ‘goodwill’-ও বাড়ে।
Tangible ও Intangible asset-এর মূল পার্থক্য
| Tangible Assets | Intangible Assets |
| (১) ট্যানজিব্ল অ্যাসেটের একটি বাস্তব রূপ আছে এবং এই সম্পদগুলিকে ধরা ছোঁয়া যায়। যেমন– plant, machinery, furniture ইত্যাদি। | (১) ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেটের কোনো বাস্তব রূপ হয় না এবং এই সম্পদ ধরা বা ছোঁয়া যায় না। যেমন patent, trademark, goodwill ইত্যাদি। |
| (২) ট্যানজিব্ল অ্যাসেটের মূল্য ধীরে ধীরে কমে আসে প্রতিদিনের ব্যবহারের ফলে। সেই কারণে কোম্পানিকে এই অ্যাসেটগুলির একটি depreciation charge রেকর্ড করতে হয় P/L A/C-এ। | (২) পেটেন্ট বা কপিরাইটের মতো ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেটের নির্দিষ্ট একটি মেয়াদ থাকে। যে কোম্পানির এই অ্যাসেট রয়েছে তারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই এই অ্যাসেটের ব্যবহার করতে পারে। এদের ভ্যালু ধীরে ধীরে কমে আসে। সেই কারণে এইসব ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেটের জন্য কোম্পানিকে একটি খরচ হিসেবে amortization খরচ রেকর্ড করতে হয়।আবার এমন ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেটও রয়েছে যাদের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই যেমন goodwill, brand name, trademark। এগুলির কোনো amortization হয় না। বরং কোম্পানি প্রতিবছর এদের ভ্যালু নির্দিষ্ট করে। যদি কোম্পানি সঠিকভাবে পরিচালিত হয় তাহলে এই অ্যাসেটগুলির ভ্যালু বাড়ে। অন্যদিকে এই অ্যাসেটগুলির ভ্যালু কমলে income statement-এ কোম্পানিকে অ্যাসেটের impairment রেকর্ড করতে হয়। |
| (৩) ট্যানজিব্ল অ্যসেট সহজে কেনাবেচা করা যায়। | (৩) ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেট কেনাবেচা করা একটু কঠিন যেহেতু এদের কোনো আকার নেই। |
| (৪) ট্যানজিব্ল অ্যাসেটের ক্ষতি বা চুরির সম্ভাবনা রয়েছে। | (৪) ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেট ধরাছোঁয়া যায় না বলে এদের চুরির সম্ভাবনা নেই ঠিকই, তবে এই ধরনের অ্যাসেট out of date হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। |
| (৫) ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির tangible asset-এর সংখ্যা বেশি। | (৫) অন্যদিকে IT বা tech কোম্পানির intangible asset-এর সংখ্যা বেশি। |
কীভাবে intangible asset-এর ভ্যালু বের করা যায়?
→ Cost method: কোম্পানির কাছে যে ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেট রয়েছে সেগুলির ভ্যালু বের করা যাবে cost method ব্যবহার করে। কীভাবে করা যাবে? ধরুন কোনো কোম্পানি অন্য একটি কোম্পানি থেকে সফটওয়্যার acquire করেছে। Cost method ব্যবহার করে কোম্পানি দেখবে যে, সফটওয়্যারটি acquire করতে বা develop করতে কত খরচ হয়েছে। সেটিকেই ওই অ্যাসেটের ভ্যালু ধরা হবে।
→ Market method: এই পদ্ধতিতে কোনো ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেটের ভ্যালু নির্ধারণ করা হয়, অপর একটি ইনট্যানজিব্ল অ্যাসেট যা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে তার দামের ভিত্তিতে। ধরুন কোনো কোম্পানি নিজেদের ট্রেডমার্কের ভ্যালু জানতে চায়। এক্ষেত্রে ওই একই ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য ট্রেডমার্কের দামের তুলনা করে মূল্য বের করা যাবে। তবে এই পদ্ধতিতে বাজারের data সম্পর্কে যথেষ্ট অ্যানালাইসিস প্রয়োজন।
→ Income method: এই পদ্ধতিতে বোঝার চেষ্টা করা হয় ভবিষ্যতে ওই intangible asset থেকে কী ধরনের আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে। এই পদ্ধতির সাহায্যে উক্ত অ্যাসেটের মাধ্যমে সম্ভাব্য আয় অথবা সম্ভাব্য ক্যাশফ্লো সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করা হয়। Copyright, patent ইত্যাদির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
→ Qualitative metric: এতক্ষণ আমরা quantitative পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তবে যে অ্যাসেটে quantitative পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে না, তার ক্ষেত্রে qualitative metric ব্যবহার করতে হবে। যেমন একটি ব্যান্ডের ভ্যালু বুঝতে quantitative method ব্যবহার করা বেশ অসুবিধাজনক। কারণ ব্র্যান্ডের ভ্যালু নির্ভর করছে গ্রাহকের বিশ্বাস, ব্র্যান্ডের পরিচয়, মান ইত্যাদির ওপর। এই ফ্যাক্টরগুলি বুঝতে market research বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।





