Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য গতিতে এগোতে পারে। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা UBI-এর একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিকূল ‘বেস এফেক্ট’ থাকা সত্ত্বেও দেশের GDP বৃদ্ধির হার প্রায় ৮.৩%-এ পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ গত বছরের উচ্চ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বা ফুয়েল প্রাইস ওঠানামা ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। তবুও ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরকারি ব্যয়ের জোর, অর্থনীতিকে সুরক্ষা প্রদান করছে।
অর্থনীতিতে ‘এডভান্স বেস এফেক্ট’ বলতে বোঝায়, আগের বছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি খুব বেশি থাকলে তার তুলনায় চলতি বছরে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম দেখাতে পারে। তবে UPI-এর বিশ্লেষণ বলছে, এই চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন, পরিষেবা ও নির্মান খাতের জোরালো পারফর্ম্যান্স সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখবে। ফলে সংখ্যার হিসাবে ৮%-এর বেশি বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধাক্কা না আসে, সেক্ষেত্রে আগামী ত্রৈমাসিকেও প্রবৃদ্ধির ধারা শক্তিশালী থাকতে পারে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যে উৎপাদন খাতে অর্ডার বুক শক্তিশালী রয়েছে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে। পরিষেবা খাতে IT, আর্থিক পরিষেবা ও ভ্রমণ -পর্যটন ক্ষেত্র উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ দেখাচ্ছে। উৎসব মরসুমে খরচ বৃদ্ধি এবং শহুরে চাহিদা বৃদ্ধিও অর্থনীতিকে গতি দিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি মূলধনী ব্যয় ও অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে আরও চাঙ্গা করেছে। স্বাভাবিক বর্ষা এবং কৃষি উৎপাদনের উন্নতি গ্রামীণ চাহিদা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে। গ্রামীণ ভোগব্যয় ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা না যায়, তবে আগামী ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধি বজায় থাকতে পারে। উচ্চ প্রবৃদ্ধি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে সাহায্য করবে এবং আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক হবে। ব্যাংক ঋণের চাহিদা ও GST আদায়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি অর্থনৈতিক পরিবেশের ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।




