Article By – সুনন্দা সেন

বর্তমানে ভারতে অনলাইন বেটিং ও গেমিং সেক্টর দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই খাতের বড় অংশই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বহু বিদেশি বেটিং প্ল্যাটফর্ম ভারতের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়, ফলে তারা দেশের কর আইনের আওতায় পড়ে না বা ইচ্ছাকৃতভাবে তা এড়িয়ে যায়। আর এই সাইটগুলি কীভাবে ট্যাক্স ফাঁকি দেয়?
- প্রথমত, তারা ভারতে নিজেদের নিবন্ধন করে না। ফলে সরাসরি তাদের ওপর কর আরোপ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- দ্বিতীয়ত, তারা এমন পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে, যেমন ধরুন বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ে বা ক্রিপ্টোকারেন্সি—যার মাধ্যমে লেনদেন ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
- তৃতীয়ত, এই সাইটগুলি প্রায়ই তাদের ডোমেইন বা অ্যাপ বদলে ফেলে, ফলে প্রশাসনের নজর এড়ানো সহজ হয়।
এদিকে, এই প্ল্যাটফর্মগুলি ভারতীয় ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া, অ্যাপ, এমনকি সেলিব্রিটি এন্ডোর্সমেন্টের মাধ্যমেও। অথচ তারা দেশের GST বা অন্যান্য কর দিচ্ছে না। এর ফলে সরকারের বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে, অনলাইন গেমিং ও বেটিং থেকে যে বিপুল আয় হওয়ার কথা, তার বড় অংশই করের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে Goods and Services Tax Council বা GST-এর ওপর চাপ বাড়ছে আরও কঠোর নিয়ম আনার জন্য।
সরকার ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক অবৈধ বেটিং ওয়েবসাইট ব্লক করা হয়েছে, পেমেন্ট গেটওয়েগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা এই ধরনের লেনদেন প্রক্রিয়া না করে, এবং আইন আরও কঠোর করার চিন্তাভাবনাও চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল হলো এই প্ল্যাটফর্মগুলির ‘অফশোর’ প্রকৃতি। যতক্ষণ না আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বয় হচ্ছে, ততক্ষণ এই ধরনের ট্যাক্স ফাঁকি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।




