Article By – সুনন্দা সেন

সেই অতীত থেকে বর্তমান সময় অব্দি বিনিয়োগের নিরাপদ বিকল্প হলো ফিক্সড ডিপোজিট। জনপ্রিয় বিনিয়োগ বিকল্পটি দেশের প্রত্যেক বিনিয়োগকারীদের মাঝে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং পছন্দের। বিশেষ করে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট বা FD অন্যতম বিনিয়োগ বিকল্প দীর্ঘ সময় ধরে। কারণ বয়সজ্যেষ্টরা নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন। তবে ব্যাংক, পোস্ট অফিস এবং নন – ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিভিন্ন মেয়াদের FD এর সুদের হার ভিন্ন হলেও নির্দিষ্ট মেয়াদের ক্ষেত্রে সুদের হার একই থাকে ম্যাচিওর হওয়া অব্দি। অর্থাৎ যদি কোনো ব্যক্তি ৭% সুদের হারে ১০ বছরের জন্য ফিক্সড ডিপোজিটে বিনিয়োগ করেন সেক্ষেত্রে ওই সুদের হারের সাথেই রিটার্ন পাবেন। যার জন্যে নিরাপত্তা থাকলেও বিনিয়োগকৃত অর্থের থেকে রিটার্ন বাড়ানোর সুযোগ অনেকেই খুঁজে পান না।
অন্য দিকে শেয়ার বাজার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং অন্যান্য স্কিমের ক্ষেত্রে সুদের হার মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবর্ষ বা বার্ষিক পরিবর্তিত। বিশেষ করে মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং শেয়ার বাজারের ক্ষেত্রে রিটার্ন দ্বিগুণ হওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। তবে সেক্ষেত্রে ঝুঁকিও থাকে দ্বিগুণ। সেই জন্যেই লক-ইন পিরিয়ড বা অকাল প্রত্যাহারের জন্য জরিমানা থাকলেও প্রবীণরা তাদের অর্থ FD-তে বিনিয়োগ করতে দ্বিধা করেন না। যেহেতু ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) এখনো পর্যন্ত হার বৃদ্ধিতে বিরতি দিয়েছে, তাই ব্যাংকগুলির দ্বারা দেওয়া আমানতের হার বর্তমানে প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে৷ যে কেউ সময় ব্যাংকের সাথে FD রেট চেক করতে পারেন এবং উপলব্ধ উচ্চ হারের সুবিধা নিতে পারেন।
ফিক্সড ডিপোজিট অফার করা নিরাপত্তা এবং তারল্য সম্পর্কে কোন প্রশ্ন নাই থাকতে পারে । তবে নিম্নলিখিত কৌশলগুলি ব্যবহার করে, একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ রিটার্ন পেতে পারে এবং FD বিনিয়োগ থেকে সম্পূর্ণ সুবিধা নিতে পারে। এখানে FD থেকে রিটার্ন সর্বাধিক করার তিনটি উপায় আলোচনা করা হলো। আর সেগুলি হলো :
- মেয়াদ নির্বাচন করা : রিটার্ন বাড়াতে প্রথমে লক্ষ্য রাখতে মেয়াদের দিকে। প্রত্যেক মেয়াদের সুদের হারের তুলনা করা আবশ্যক। যেমন ধরুন HDFC ব্যাংক ৪ বছর ৭ মাসের মেয়াদী FD তে সর্বোচ্চ সুদের হার অফার করছে। অন্যদিকে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া প্রায় একই সুদের হার ২ বছর থেকে ৩ বছরের কম সময়ের FD মেয়াদে অফার করছে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তি SBI বেছে নেন সেক্ষেত্রে লাভবান বেশি হবেন। এছাড়াও মেয়াদ নির্বাচন করার বিষয় নজর দিতে হবে কারণ ব্যাংকগুলো সব সময় মেয়াদ ভিত্তিক সুদের হার পরিবর্তন করে। আর অনেক সময় স্পেশাল মেয়াদের FD লঞ্চ করে থাকে, যার সুদের হার সর্বোচ্চ।
- সুদের হারের বিকল্প: বিনিয়োগকারীদের যে কোনো ক্ষেত্রে ফিক্সড ডিপোজিট শুরু করার আগে ক্রমবর্ধমান সুদের হারের বিষয় আলোচনা করে নেওয়া আবশ্যক। এই যেমন ধরুন অবশ্যই প্রথমে কোন ব্যাংকের সুদের হার সর্বোচ্চ সেটা দেখা আবশ্যক। এর বাদে দেখতে হবে ব্যাংকটি ফিক্সড ডিপোজিট ক্ষেত্রে কিভাবে বা কোন সময়ের মেয়াদে সুদ প্রদান করবে। অনেক ক্ষেত্রে সুদের হার নির্দিষ্ট থাকলেও দেশীয় ব্যাংক গ্রাহকদের ত্রৈমাসিক, ছয় মাস অন্তর বা বছরে সুদ অফার করে থাকে। কম্পাউন্ডিং ফ্রিকোয়েন্সি যত বেশি, রিটার্ন তত বেশি। সুতরাং, একজনের যদি তাদের ব্যয় চালানোর জন্য অন্য আয়ের উৎস থাকে তবে ক্রমবর্ধমান সুদের বিকল্পটি বেছে নেওয়া উচিত।
বিনিয়োগে ল্যাডারিংয়ের ব্যবহার: ফিক্সড ডিপোজিট ল্যাডারিং হল একটি বিনিয়োগ কৌশল। যেখানে আপনি সর্বোচ্চ সুদের হারে শুধুমাত্র একটি FD বুক করার পরিবর্তে একাধিক FD বুক করার জন্য বিভিন্ন সুদের হার সহ বিভিন্ন মেয়াদ বেছে নেন। আপনার FD বিনিয়োগ থেকে সর্বাধিক আউটপুট পেতে যেটি কার্যকর প্রমাণিত হয়। উদাহরণ সহ বুঝতে গেলে যদি আপনার কাছে একটি FD-তে বিনিয়োগ করার জন্য ২,০০,০০০ টাকা থাকে, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদের সাথে শুধুমাত্র একটি মেয়াদ নির্বাচন করার পরিবর্তে, বিভিন্ন হারে বিভিন্ন মেয়াদ বেছে নিন। যার পরে প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদী FD পরিপক্ক হওয়ার আগে যদি আপনার অর্থের প্রয়োজন হয় তবে প্রি-ম্যাচিউর পেনাল্টি এড়াতে পারবেন এবং দ্বিতীয়ত, সময়ের সাথে সাথে সুদের হারের গড় বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ একসাথে ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর, ৪ বছর, এবং ৫ বছরের বা তার বেশি মেয়াদের FD-এ ২,০০,০০০ টাকার ছোট ছোট করে অংশ করে বিনিয়োগ করুন। যার মাধ্যমে, প্রতি বছর যেকোন প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য তারল্য পাওয়া যাবে এবং যদি অর্থের প্রয়োজন না থাকে তবে বিনিয়োগ এবং তারল্য প্রবাহ বজায় রাখার জন্য এটি পুনরায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে।




