Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় UPI এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। সাধারণ মানুষ টাকা পাঠাতে বা রিসিভ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার চার্জও পে করে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো– পরিষেবা ফ্রি হওয়ায় ফোন পে (PhonePe), পেটিএম (Paytm)-এর মতো অ্যাপগুলো আয় করছে কীভাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো UPI ভিত্তিক ফিনটেক ইকোসিস্টেমে বার্ষিক প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার বেশি আয় বা ইনকাম জেনারেট করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর তার বড় অংশ আসছে পরোক্ষ উপায়ে। আর সেই উপায়গুলি হলো,
- প্রথমত, সবচেয়ে বড় আয় আসে মার্চেন্ট সার্ভিস থেকে। সাধারণ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ট্রান্সফার ফ্রি হলেও দোকান, ই-কমার্স বা বড় ব্যবসায়ীরা পেমেন্ট গেটওয়ে, QR ম্যানেজমেন্ট, ডাটা অ্যানালিটিক্স ও প্রিমিয়াম টুলের জন্য সাবস্ক্রিপশন বা সার্ভিস চার্জ দেয়। কোটি কোটি ব্যবসায়ী যুক্ত হওয়ায় এই খাত থেকেই বড় অঙ্কের রাজস্ব আসে।
- দ্বিতীয়ত, দ্রুত বাড়ছে ফিনান্সিয়াল প্রোডাক্ট কমিশন। এখন এই অ্যাপগুলোর ভেতর থেকেই ব্যক্তিগত ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, ইনস্যুরেন্স, মিউচুয়াল ফান্ড বা SIP নেওয়া যায়। ব্যবহারকারী কোনো লোন নিলে বা ইনস্যুরেন্স কিনলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা NBFC অ্যাপকে কমিশন দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সেগমেন্টই বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক।
- তৃতীয় বড় উৎস হলো “ক্রেডিট অন UPI” বা পে-লেটার পরিষেবা। অনেক ব্যবহারকারী এখন তাৎক্ষণিক ক্রেডিট লাইন ব্যবহার করছেন। এখানে সুদের অংশ, প্রসেসিং ফি ও লেট ফি থেকে প্ল্যাটফর্মগুলো আয় করে। ডিজিটাল ক্রেডিট বাজার দ্রুত বাড়ায় এই অংশের গুরুত্বও বাড়ছে।
- চতুর্থত, বিনিয়োগ ও ওয়েলথ সার্ভিস থেকেও আয় হচ্ছে। ডিজিটাল গোল্ড কেনা, শেয়ার ট্রেডিং, ফিক্সড ডিপোজিট বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করলে প্ল্যাটফর্ম ডিস্ট্রিবিউশন কমিশন পায়। ছোট ছোট কমিশন হলেও ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় মোট আয় বড় হয়।
এর পাশাপাশি ইন-অ্যাপ বিজ্ঞাপন ও স্পনসরড অফারও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপ খুললেই বিভিন্ন ক্যাশব্যাক অফার, ব্র্যান্ড প্রমোশন বা ফিচার্ড সার্ভিস দেখা যায়। আর এসবের জন্য কোম্পানিগুলো প্ল্যাটফর্মকে টাকা দেয়। একইভাবে বিদ্যুৎ বিল, মোবাইল রিচার্জ বা DTH পেমেন্টে সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছ থেকেও ছোট কমিশন আসে, যা বিশাল ট্রান্সাকশন ভলিউমের কারণে বড় অঙ্কে পৌঁছায়।




