buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
Loan

ঋণ হল সস্তা! ঋণগ্রহীতারা পাচ্ছেন কী ধরনের সুবিধা?

ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুখবর। অবশেষে RBI রেপো রেটে স্বস্তি এনে ২৫ bps অর্থাৎ ২৫ basis point কমালো। ৭ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আজ ছিল মনিটারি পলিসির মিটিং। ৫ বছরের দীর্ঘ ব্যবধানের পর রেপো রেট কমিয়েছে RBI। বিগত পাঁচ বছরে ঋণগ্রহীতারা রেট হয় বাড়তে দেখেছেন অথবা একই থাকতে দেখেছেন। রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমে 6.25% হওয়াতে ঋণগ্রহীতারা আশা করছেন ফ্লোটিং রেট হোম লোনে সুদের হার কমবে। এইরকম আশা করার পেছনে কারণ হল ২০১৯ সালের ১ অক্টোবরে অনুমোদিত হওয়া সবধরনের খুচরো floating rate-এর লোনগুলি বাহ্যিক একটি বেঞ্চমার্কের সঙ্গে যুক্ত এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই বেঞ্চমার্ক হল রেপো রেট। ফলে রেপো রেট কমে যাওয়াতে ঋণগ্রহীতারা সরাসরি সুবিধা পাবেন। জানিয়ে রাখি ভারতের অধিকাংশ গৃহঋণগুলি ফ্লোটিং ইন্টারেস্ট রেট ক্যারি করে। ফলে সুদের হার কমবে এবং EMI-ও কমে আসে।

8 3

মনে করা হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি কমে যাওয়া এবং অর্থনীতিতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেওয়া সরকারি উদ্যোগগুলির কারণে রেপো রেট হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, গত চার মাসের সর্বনিম্ন ছিল ডিসেম্বর মাসের মুদ্রাস্ফীতি, যা ছিল 5.22%।

২০১৯ সালের অক্টোবর মাস থেকে external benchmark অর্থাৎ রেপো রেটের সঙ্গে বাড়ি, গাড়ি, ইএমআই-এর মতো retail floating loan যুক্ত করেছে ব্যাংক। ফলে রেপো রেটের পরিবর্তন সরাসরি এই ধরনের লোনগুলির সুদের হারে প্রভাব ফেলে। রেপোরেট কমলে ঋণগ্রহণকারী ব্যক্তিরা কিছুটা স্বস্তি পান কারণ ঋণের সুদের হার কমে আবার রেপো রেট বাড়লে সুদের হার বেড়ে যায়। কী ধরনের সুবিধা পাবেন ঋণগ্রহীতারা? আসুন দেখা যাক।

বর্তমান গৃহঋণগ্রহীতাদের সুদের হারের সুবিধা:

ধরুন, একজন ব্যক্তি একবছর আগে ২০ লাখ টাকার একটি গৃহঋণ নিয়েছেন, যার সুদের হার 8% এবং ঋণের মেয়াদ ২০ বছরের। তাহলে প্রতি মাসের EMI-এর পরিমাণ হবে মোটামুটি ১৬ হাজার ৭২৯ টাকা এবং মোট ইন্টারেস্ট দিতে হবে ২০.১৪ লাখ টাকা। রেপো রেট কমে যাওয়াতে ঋণগ্রহীতাদের সুদের হার কমে আসবে।

এবার যেহেতু রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমে গেছে তাই সুদের হার 8% থেকে কমে 7.75% হবে। ফলস্বরূপ, মোট সুদ প্রদানের পরিমাণ কমে ১৯.৪০ লাখ টাকা হবে এবং monthly EMI হবে ১৬ হাজার ৪১৯ টাকা মতো। অর্থাৎ মোট প্রদেয় সুদের পরিমাণ ১ লাখ টাকা মতো কমে গেল। এছাড়াও আপনার লোনের মেয়াদও কমে যাবে অর্থাৎ আপনি তাড়াতাড়ি লোন শোধ করার সুযোগ পাবেন।

নতুন ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা:  

সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে লোন এবার আরও কিছু সস্তা হল। এবং EMI কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বেশি সংখ্যক ঋণগ্রহীতা এবার ঋণ নিতে আগ্রহী হবে। ফলে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ বাড়বে। এছাড়াও এবার বাজেটে করের নিয়মের যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তাতে এই দুইয়ের মেলবন্ধনে দেশের আর্থিক গ্রোথের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একজন বেতনভোগী ব্যক্তি যাঁর গ্রস আয় ২০ লাখের উপরে এবং হোম লোন বাবদ ৫০ লাখের ঋণ আছে, তিনি এই সুদের হার কমে যাওয়া এবং আয়করের slab rate কমে যাওয়ার ফলে বছরে ১ লাখ থেকে ১.৫০ লাখ টাকা সঞ্চয় করতে পারবেন। রেট কমে যাওয়ায় ঋণগ্রহণের সংখ্যা বাড়বে এবং গ্রাহকের কাছে ঋণ হবে সহজলভ্য ও সস্তা, যা অর্থনীতি, বিশেষত রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করবে।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading