আর্থিক বাজারের দুটি প্রধান বিনিয়োগ পদ্ধতি হল investing এবং trading। প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তির আমদানির ফলে ট্রেডিং বলুন বা ইনভেস্টিং— উভয়ই আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। যদিও কিছু কিছু ফ্যাক্টর রয়েছে যা এই দুই বিষয়কে আলাদা বা পৃথক করে। আজকের আলোচনায় জানব অপশন ও স্টক সম্পর্কে।
স্টক কী?
স্টকে বিনিয়োগ করা সম্ভবত সবচেয়ে স্বাভাবিক ও সাধারণ একটি পদ্ধতি যেখানে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের অর্থ বিনিয়োগ করেন। Equity বা stock investment-এর অর্থ হল কোনো কোম্পানির স্টক কেনা। একটি ইক্যুইটি শেয়ার একটি কোম্পানির আংশিক অংশীদারিত্ব বোঝায়। কোম্পানির শেয়ারগুলি এক্সচেঞ্জে ট্রেড হয়। তবে স্টকের দাম বিভিন্ন অর্থনৈতিক কারণে ওঠানামা করে। তাছাড়াও কোম্পানির আয়, মুনাফা, ম্যানেজমেন্ট ও অন্যান্য ফ্যাক্টর শেয়ারের দামে প্রভাব ফেলে। কোম্পানির অস্তিত্ব যতদিন থাকবে শেয়ারের অস্তিত্বও ততদিন থাকবে।
অপশন কী?
অপশন হল আর্থিক ডেরিভেটিভ চুক্তি। এই চুক্তিগুলি নিজেদের underlying asset অর্থাৎ স্টক, ইনডেক্স, কমোডিটি ইত্যাদি থেকে তাদের value derive করে। অপশন চুক্তির ক্ষেত্রে, এই চুক্তিগুলির কোনো নিজস্ব ভ্যালু বা মূল্য নেই, এই চুক্তিগুলি নিজেদের ভ্যালু derive করে underlying asset থেকে এবং নির্দিষ্ট একটি তারিখে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।
একটি অপশন কন্ট্র্যাক্ট বা চুক্তির ফলে অপশনের বিনিয়োগকারীর কাছে সিকিউরিটি কেনা বা বেচার অধিকার থাকে, কিন্তু কোনো obligation বা বাধ্যতা তৈরি হয় না। সিকিউরিটি কেনা বা বেচার একটি পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট তারিখ থাকে। অপশন কন্ট্রাক্ট দুই ধরনের হয়, call ও put।
কল অপশন, কন্ট্র্যাক্ট বায়ারদের পূর্বনির্ধারিত মূল্যে নির্দিষ্ট দামে সিকিউরিটি কেনার অধিকার দেয়। কল অপশনের মূল্য বা প্রিমিয়াম underlying asset-এর মূল্যের সামঞ্জস্যে বাড়ে বা কমে অর্থাৎ, কন্ট্র্যাক্টের underlying asset-এর দাম কমলে অপশনের মূল্য কমে, আবার অ্যাসেটের দাম বাড়লে অপশনের দাম বাড়ে।
অন্যদিকে put option বায়ারকে পূর্বনির্ধারিত দামে নির্দিষ্ট তারিখে সিকিউরিটি বিক্রির অধিকার দেয়। Underlying asset-এর ভ্যালু কমলে put option-এর ভ্যালু বাড়ে।
স্টকের সুবিধা:
→ দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন ও সম্পদ বৃদ্ধি করতে স্টকে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
→ এছাড়াও বেশ কয়েকটি স্টক থেকে ডিভিডেন্ড পাওয়া যায় যা বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের সুযোগ দেয়।
→ স্টকে বিনিয়োগ করলে আলাদা আলাদা কোম্পানি ও আলাদা সেক্টরে বিনিয়োগের সুযোগ।
স্টকে বিনিয়োগের অসুবিধা:
→ ইক্যুইটি বিনিয়োগে ঝুঁকি রয়েছে। স্টক ভ্যালুতে বিভিন্ন কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মূলধন ক্ষতি হতে পারে।
→ সঠিক স্টক বাছাই করা বেশ কঠিন একটি পদ্ধতি। বিনিয়োগকারীদের একাধিক ফ্যাক্টর অ্যানালাইসিস করে তারপর স্টক নির্বাচন করতে হয়। এছাড়াও স্টকের দাম বেশ ভোলাটাইল।
অপশনে বিনিয়োগের সুবিধা:
→ অপশনে স্বল্পমেয়াদে ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়। অপশন কন্ট্র্যাক্ট লিভারেজ নেওয়া যায়, ফলে ট্রেডাররা পরিমিত অর্থের বাইরেও লিভারেজ নিয়ে ট্রেডের সুযোগ পান।
→ অপশন বেশ ভোলাটাইল এবং বেশ ওঠানামা করে। ট্রেডাররা ভোলাটিলিটির সুযোগে অধিক মুনাফা লাভ করতে পারেন।
অপশনে বিনিয়োগের অসুবিধা:
→ অপশন অধিক রিটার্ন দেয় ঠিকই তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। একজন অপশন বায়ার প্রিমিয়ামের পুরো অর্থই হারাতে পারেন আবার অপশন সেলারের ঝুঁকি সীমাহীন থাকে।
→ তাছাড়াও অপশনের ভোলাটাইল স্বভাবের কারণে প্রিমিয়ামে তাৎপর্যপূর্ণ ওঠানামা দেখা যায়। ফলে সবধরনের ট্রেডারদের জন্য এটি উপযুক্ত নয়।
তাহলে প্রশ্ন হল স্টক নাকি অপশন – বিনিয়োগ করবেন কোথায়?
আপনার বিনিয়োগ লক্ষ্য কী, আপনি কতটা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত, কী মেয়াদে বিনিয়োগ করতে চান, ইত্যাদি একাধিক বিষয় জানা প্রয়োজন। অবশ্যই স্টকে বিনিয়োগের তুলনায় অপশন ট্রেডিং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি।
ফলে, আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদের পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ করতে চান তাহলে আপনার জন্য অধিক উপযুক্ত হবে স্টকে বিনিয়োগ। তবে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির খুঁটিনাটি বিষয় জেনে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।





