অনেক কোম্পানি নিজেদের মুনাফার অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ভাগ করে। প্রফিট বা মুনাফার এই বিতরণ বিভিন্নভাবে কোম্পানি করতে পারে। তাদের মধ্যে একটি হল ক্যাশ ডিভিডেন্ড বা নগদ ডিভিডেন্ড। ক্যাশ ডিভিডেন্ডকে এইভাবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে–– ধরুন একজন বিনিয়োগকারী ভরসা করে একটি কোম্পানিতে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, সেই প্রেক্ষিতে তিনি যে রিওয়ার্ড বা পুরস্কার পান তাকেই নগদ ডিভিডেন্ড বলে। আজকে আমরা আলোচনা করব ক্যাশ ডিভিডেন্ড সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে।
ক্যাশ ডিভিডেন্ড কী?
কোম্পানি নিজের শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে মুনাফার কিছু অংশ ভাগ করে দিতে পারে। এটি মূলত শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের একটি মাধ্যম বা এটিকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোম্পানির তরফ থেকে একটি পুরস্কার হিসেবে দেখা যেতে পারে। ক্যাশ ডিভিডেন্ড স্টক ডিভিডেন্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। স্টক ডিভিডেন্ডে, ডিভিডেন্ড হিসেবে অতিরিক্ত স্টক পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়, তবে ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থ ডিভিডেন্ড হিসেবে পান।
কীভাবে কাজ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড?
ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার পদ্ধতিটি বেশ সাধারণ। কোম্পানি যদি মুনাফা অর্জন করে তাহলে সেইসময় কোম্পানি নিজের মুনাফা থেকে কিছু অংশ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ভাগ করে দিতে পারে, তাদের শেয়ারহোল্ডিং-এর হিসাবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপে ঘোষণা করবে যে ডিভিডেন্ড হিসেবে তারা প্রতি শেয়ারে কত টাকা বিনিয়োগকারীদের দিতে ইচ্ছুক। যেমন ধরুন, কোনো বিনিয়োগকারীর কাছে একটি কোম্পানির ৫০টি শেয়ার আছে। কোম্পানিটি সিদ্ধান্ত নিল প্রতি শেয়ারে ১০ টাকা করে ডিভিডেন্ড দেবে। তাহলে ওই বিনিয়োগকারী (৫০X১০)= ৫০০ টাকা ডিভিডেন্ড হিসাবে পাবেন।
ডিভিডেন্ড পাওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীকে কয়েকটি তারিখ বা বিশেষ দিন মনে রাখতে হবে। ডিভিডেন্ড ঘোষণা থেকে শুরু করে, ডিভিডেন্ড প্রদান করা পর্যন্ত এই দিনগুলির তাৎপর্য অনেক।
ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ফরমুলা:
ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ফরমুলাটি হল –
মোট ক্যাশ ডিভিডেন্ড = প্রতি শেয়ারে ডিভিডেন্ড X শেয়ারের সংখ্যা
কোম্পানির ক্যাশ ডিভিডেন্ড ইস্যুর পদ্ধতি:
→ কোম্পানির সিদ্ধান্ত: যখনই ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হোক, তার আগে কোম্পানির বোর্ডের সদস্যরা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন। কোম্পানির রেভিনিউ কত রয়েছে সে বিষয়ে দেখা হয় এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে শেয়ারহোল্ডারদের ক্যাশ ডিভিডেন্ডের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
→ ঘোষণা: কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ডিভিডেন্ড প্রদানের দিন, অর্থাৎ যে দিন ডিভিডেন্ড প্রদান করা হবে সেই তারিখ ঘোষণা করে, এছাড়াও ডিভিডেন্ডের পরিমাণও ঘোষণা করা হয়।
→ রেকর্ড ডেট: কোম্পানির ক্যাশ ডিভিডেন্ড পেতে হলে আপনাকে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের তালিকায় থাকতে হবে। ডিক্লারেশন ডেটের পরে একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয় যেদিনটিকে রেকর্ড ডেট বলা হয়। এই দিনে কোম্পানির রেকর্ডবুকে বিনিয়োগকারীর নাম থাকতে হবে, তবেই ডিভিডেন্ড পাওয়া যাবে।
ক্যাশ ডিভিডেন্ডের সুবিধা:
→ নিশ্চিত আয়ের উৎস:
- ক্যাশ ডিভিডেন্ড শেয়ারহোল্ডারদের নিশ্চিত আয়ের সুযোগ দেয়।
- ফলে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের বিনিয়োগের উপর স্টেবিলিটি পান।
→ রিটার্ন:
- ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ফলে বিনিয়োগকারীরা তৎক্ষণাৎ রিটার্ন পান।
- যেহেতু শেয়ারহোল্ডাররা actual cash পান তাই সেই অর্থ অন্যান্য খরচ মেটাতে বা পুনরায় বিনিয়োগে কাজে লাগে।
→ কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্য:
- যদি কোনো কোম্পানি নিয়মিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান কর তাহলে সাধারণত কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্য সচ্ছল বুঝতে হবে।
ক্যাশ ডিভিডেন্ডের অসুবিধা:
→ কর:
- মনে রাখতে হবে, ক্যাশ ডিভিডেন্ডকে ‘income from other sources’ ধরা হয় এবং এটির উপর কর দিতে হয় শেয়ারহোল্ডারদের।
- ফলে এই কারণে সেটি রিটার্নের পরিমাণ কমে যায়।
→ কোম্পানির পুনর্বিনিয়োগ সুযোগ কমে যায়:
- কোম্পানি যদি ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করে তাহলে তাদের কাছে সেই অর্থ পুনর্বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকে না। ফলে সেই অর্থ কোম্পানির গ্রোথে কাজে লাগে না।
- ফলে যেহেতু কোম্পানি এই অর্থ ঋণ পরিশোধ বা উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করছে না, তাই কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধির সম্ভাবনা হারাচ্ছে।
→ বাজারে মনোভাব:
- কোনো কোম্পানি হঠাৎ করে যদি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় কোম্পানিটি হয়তো আর্থিকভাবে সচ্ছল নয়।





