Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের শীর্ষ শিল্পপতিদের মধ্যে অন্যতম আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এবং তার গ্রুপের কোম্পানিগুলি ২০২৩ সালের প্রথম দিকে মার্কিন শোর্টসেলার হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিপুল সম্পদ হারায়। তবে সম্প্রতি গৌতম আদানি এবং আদানি গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগ এবং মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ব্যাপক ঘুষের অভিযোগ চাপানোর পর একদিনে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি হারিয়েছেন। যার প্রভাব দেশের উন্নতির উপর পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি জানা যাচ্ছে যে বিশ্বের শীর্ষ বিলিয়নারদের তালিকায় প্রথম ১০ নেই ভারতীয় এই শিল্পপতির নাম। রাতারাতি আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান খুইয়েছেন নিজ স্থান। কারণ হিন্ডেনবার্গের সংকটের থেকেও বর্তমান অভিযোগের প্রভাব পড়েছে বেশি। তুলনা করে দেখতে গেলে ২৭জানুয়ারী, ২০২৩-এ মার্কিন ভিত্তিক শর্ট সেলার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ আদানি গ্রুপের কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কর্পোরেট দুর্নীতির অভিযোগ করার দুই দিন পর – গ্রুপের মার্কেট ক্যাপ ৩.২ লাখ কোটি টাকা কমে গেছিল। সেখানে একদিনে গ্রুপের সকল কোম্পানির মার্কেট ক্যাপ ২.২ লক্ষ কোটি টাকা কমেছে।
গুজরাট ভিত্তিক ব্যবসায়ীর মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৫৮ বিলিয়ন ডলারের কম। বর্তমানে, আদানি বিশ্বের শীর্ষ বিলিয়নেয়ার তালিকার ২৫তম ধনী বিলিয়নেয়ার। যেখানে মার্কিন উদ্ভাবক-কাম-ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক ৩১৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ব্যক্তিগত সম্পদের সাথে শীর্ষে রয়েছে৷ আর ভারতীয়দের মধ্যে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি ৯৬.৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যক্তিগত সম্পদের সাথে ভারতের সবচেয়ে ধনী হিসেবে তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছেন। ফোর্বসের ডেটা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২১ নভেম্বর, ২০২৪- এ গৌতম আদানি এবং তার গ্রুপ ১২.১ বিলিয়ন ডলার খুইয়েছে।
পাশাপাশি জানা যাচ্ছে যে একদিনে আদানি গ্রুপের আদানি এন্টারপ্রাইজের মার্কেট ক্যাপ প্রায় ৭৩,৬০০ কোটি টাকা কমেছে। আদানি গ্রীন এনার্জির শেয়ারের দাম প্রায় ১৯% কমেছে এবং এর বাজার মূল্য কমেছে প্রায় ৪২,০০০ কোটি টাকা। গ্রুপের অন্যান্য স্টকগুলির মধ্যে, আদানি এনার্জি সলিউশন সর্বাধিক সম্ভাব্য ২০%, আদানি পোর্টস ১৩.৫%, আদানি উইলমার সর্বাধিক সম্ভাব্য ১০%, অম্বুজা সিমেন্টস ১২% এবং আদানি টোটাল গ্যাস ১০.৪% কমেছে। আজকেও পতন অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া এর প্রভাব ভারতীয় শেয়ার বাজারে জন্য নেতিবাচক।




