Article By – সুনন্দা সেন

আদানি এন্টারপ্রাইজেস এবং আদানি পোর্টসের শেয়ার আবারও বাজারের নজরে, কারণ ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০,০০০ কোটি টাকার চুক্তি সম্পন্ন করেছে আদানি গ্রুপ। একসময় শর্ট-সেলার বিতর্কে তীব্র চাপে পড়া এই শিল্পগোষ্ঠী এখন আক্রমণাত্মক সম্প্রসারণ কৌশলের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে আদানি গ্রুপ বন্দর, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ, খনি, বিমানবন্দর ও অবকাঠামো, এই মূল ব্যবসা ক্ষেত্রগুলিতে একের পর এক অধিগ্রহণ ও বিনিয়োগ করেছে।
এছাড়া মোট প্রায় ৩৩টি বড় ও মাঝারি চুক্তি এই সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা গ্রুপের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। আর বিশেষভাবে নজরে রয়েছে Adani Ports and Special Economic Zone (APSEZ)। আরও জানা যাচ্ছে যে সংস্থাটি সম্প্রতি বিদেশে বড় অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে। যার ফলে তাদের আন্তর্জাতিক বন্দর নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে আদানি পোর্টস শুধু ভারতের নয়, বৈশ্বিক স্তরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক প্লেয়ার হিসেবে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করছে।
অন্যদিকে, Adani Enterprises—যাকে গ্রুপের ইনকিউবেটর বলা হয়, তারা নতুন নতুন ব্যবসা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। নবায়নযোগ্য শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন, ডেটা সেন্টার ও অবকাঠামো প্রকল্পে এই সংস্থার ভূমিকা ভবিষ্যতের বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপশি সিমেন্ট ব্যবসাতেও আদানি গ্রুপ বড়সড় পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। আর Ambuja Cements-এর অধীনে ACC ও Orient Cement একীভূত করার পরিকল্পনা গ্রুপের উৎপাদন দক্ষতা ও বাজার দখল আরও বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই একত্রীকরণের ফলে খরচ কমানো এবং অপারেশনাল সিঙ্ক্রোনাইজেশনের সুবিধা মিলবে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় অঙ্কের চুক্তি সম্পন্ন হওয়া বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়। যদিও ঋণের মাত্রা ও নিয়ন্ত্রক নজরদারি নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে, তবুও আদানি গ্রুপের ধারাবাহিক ডিল-মেকিং স্পষ্ট করছে যে তারা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির রাস্তায় ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অর্থাৎ ৮০,০০০ কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে আদানি গ্রুপ আবারও প্রমাণ করতে চাইছে যে সংকট কাটিয়ে তারা শুধু স্থিতিশীলই নয়, বরং নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে।




