Article By – সুনন্দা সেন

আমেরিকান শর্টসেলার হিন্ডেনবার্গের অভিযোগ ওঠার পর থেকে একের পর এক বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন গৌতম আদানি এবং তার সংস্থা। অবশ্য সময়ের সাথে আদানি গ্রুপ লোকসানের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও এক একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। জানা যাচ্ছে সম্প্রতি কেনিয়া সরকার এবং ভারতের আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের মধ্যে হওয়া ১.৮৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে স্থগিতাদেশ জারি করেছে কেনিয়া হাইকোর্ট। যে চুক্তিতে আদানি গ্রুপ ৩০ বছরের জন্য নাইরোবির জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা JKIA পরিচালনা করার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে গৌতম আদানির পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৯ সালের মধ্যে টার্মিনাল এবং ট্যাক্সিওয়ের জন্য ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, ২০৩৫ সালের মধ্যে আপগ্রেডের জন্য অতিরিক্ত ৯২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ। যা ভারতের বাইরে আদানির প্রথম বিমানবন্দর অপারেশনের প্রতিনিধিত্ব করার সাথে ব্যবসায়িক প্রসার বিশ্বে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য। এই চুক্তিও তার অংশ। যা কেনিয়ার জন্য কতটা লাভ জনক সেই নিয়েও প্রশ্ন থাকায় আপাতত পরিকল্পনা স্থগিত রয়েছে।
কেনিয়া হাইকোর্ট জানিয়েছে আগামী শুনানি পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত থাকবে। আর চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা জন্য কোনো পদক্ষেপও গ্রহণ করা যাবে না। আর এই সব শুরু হয়েছে কেনিয়া সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, নাইরোবিন জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লিজ দেওয়ার বিষয়ে কেনিয়া সরকারের বিরুদ্ধে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ দায়ের করা হয়েছে। আর কেনিয়ার মানবধিকার কমিশনও এই চুক্তিটিকে অসাংবিধানিক বলে অবিহিত করেছে। পাশাপাশি এও উঠে এসেছে যে সরকারের পদক্ষেপ সুশান, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা সহ একাধিক নীতি লঙ্ঘন করেছে।
মামলার একজন আবেদনকারী তথা কেনিয়ার লো-সোসাইটির সভাপতি ফেইথ অধিয়াম্বো বলেছেন, সাধারণ মানুষ চাকরি হারানো ভয়, অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে আর্থিক ঝুঁকি মুখমুখি হচ্ছেন। তাই তারা চান লিজ না দিয়ে কেনিয়া সরকার JKIA সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল জেনো সংগ্রহ করে। প্রস্তাবিত চুক্তিটি কেনিয়ার পরিবহন শ্রমিকদের তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। কেনিয়ার এভিয়েশন ওয়ার্কাস ইউনিয়নের প্রায় ১০,০০০ সদস্য প্রাথমিক ভাবে ধর্মঘটের পরিকল্পনা করছে কারণ সবাই চাকরি হারানো ভয় পাচ্ছেন।




